ল্যাপটপের বাজারে বড় ধরনের চমক নিয়ে এলো টেক জায়ান্ট অ্যাপল। প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতাকে আরও সাশ্রয়ী করতে তারা উন্মোচন করেছে নতুন 'ম্যাকবুক নিও' (MacBook Neo)। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই ল্যাপটপটির দাম শুরু হয়েছে মাত্র ৫৯৯ ডলার থেকে, যা শিক্ষা ডিসকাউন্টে মাত্র ৪৯৯ ডলারে পাওয়া সম্ভব। তবে আইকনিক 'ম্যাকবুক এয়ার' সিরিজের রাজত্বের মাঝে এই নতুন নিও মডেলটি ঠিক কতটা টেকসই হবে এবং ক্রেতারা কেন এটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
কারিগরি পার্থক্য: নিও বনাম এয়ার
বিজ্ঞাপন
ম্যাকবুক নিও এবং এয়ার সিরিজের মধ্যে মূল পার্থক্যটি লুকিয়ে আছে এদের প্রসেসর ও মেমোরিতে। যেখানে এম৪ বা এম৫ চিপসেট সমৃদ্ধ ম্যাকবুক এয়ার মডেলে ১৬ জিবি র্যাম নিশ্চিত করা হয়েছে, সেখানে নিও মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে আইফোন ১৬ প্রো-তে থাকা 'A18 Pro' চিপসেট এবং ৮ জিবি র্যাম। নিও-র ১৩ ইঞ্চির ডিসপ্লেটি এয়ারের ১৩.৬ ইঞ্চির তুলনায় কিছুটা ছোট হলেও এটি লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে সমৃদ্ধ। ওজনের দিক থেকে দুটি মডেলই সমান (২.৭ পাউন্ড), যা বহনে অত্যন্ত সুবিধাজনক।

সাশ্রয় করতে যা যা বাদ পড়ল
দাম অনেকটা হাতের নাগালে নিয়ে আসতে অ্যাপলকে কিছু জনপ্রিয় ফিচারে আপস করতে হয়েছে। ম্যাকবুক নিও-র কিবোর্ডে কোনো 'ব্যাকলাইট' নেই, যা অন্ধকারের কাজে কিছুটা অসুবিধা তৈরি করতে পারে। এছাড়া এতে নেই জনপ্রিয় 'ম্যাগসেফ' চার্জিং কানেক্টর; চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে সাধারণ ইউএসবি-সি পোর্ট। টাচপ্যাডের ক্ষেত্রেও হ্যাপটিক ফিডব্যাকের বদলে সাধারণ মেকানিক্যাল টাচপ্যাড দেওয়া হয়েছে এবং বেস মডেলে বায়োমেট্রিক সুরক্ষার জন্য কোনো 'টাচ আইডি' রাখা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আইফোন ১৭ই মডেল আনল অ্যাপল
৮ জিবি র্যামের সীমাবদ্ধতা ও পারফরম্যান্স
ম্যাকবুক নিও-র সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় এর ৮ জিবি র্যাম। সাধারণ দাপ্তরিক কাজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি বা মুভি দেখার জন্য এই র্যাম যথেষ্ট। তবে ব্যবহারকারী যদি ভিডিও এডিটিং, ভারী গ্রাফিক্স ডিজাইন কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) টুল নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে চান, তবে ৮ জিবি র্যাম কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাড়তি টাকা খরচ করে ১৬ জিবি র্যামের ম্যাকবুক এয়ার কেনাই হবে দীর্ঘমেয়াদী এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন কিনবেন ম্যাকবুক নিও?
যাদের বাজেট সীমিত কিন্তু ল্যাপটপে ম্যাক ওএস (macOS)-এর অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য নিও এক দুর্দান্ত সমাধান। এটি অনেকটা কিবোর্ড যুক্ত বড় পর্দার আইপ্যাডের মতো কাজ করবে, যা ওজনে হালকা এবং ডিজাইনে আধুনিক। আকর্ষণীয় চারটি রঙে—সিট্রাস ইয়েলো, ব্ল্যাশ পিঙ্ক, ডার্ক ব্লু এবং সিলভারে পাওয়া এই মডেলটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত যারা সাশ্রয়ী বাজেটে একটি স্টাইলিশ ও কাজের ল্যাপটপ খুঁজছেন, তাদের জন্যই এই ম্যাকবুক নিও।
এজেড

