বর্তমান সময়ে দৈনন্দিন কাজ থেকে বিনোদন—সবকিছুই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাধের ওয়াইফাই সংযোগটি যদি মাঝপথে স্লো হয়ে যায়, তবে ভিডিও কল থেকে অনলাইন গেমিং, সবক্ষেত্রেই বিরক্তির সৃষ্টি হয়। রাউটার থেকে দূরত্ব, পুরনো হার্ডওয়্যার কিংবা ব্যান্ডউইথ হগিং অ্যাপ্লিকেশনের মতো নানা কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই, কয়েকটি ছোট পরিবর্তনেই আপনি ফিরে পেতে পারেন দ্রুতগতির ইন্টারনেট।
ওয়াইফাই স্লো হওয়ার কারণ
বিজ্ঞাপন
ইন্টারনেট ধীরগতির হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২.৪ GHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের ব্যবহার, যা মাইক্রোওয়েভ বা প্রতিবেশীর ওয়াইফাই সিগন্যালের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া পুরনো রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট না থাকা বা একসঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইস সংযুক্ত থাকাও গতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

গতি বাড়াতে যা করবেন
রাউটারের সঠিক অবস্থান: রাউটার সবসময় ঘরের মাঝামাঝি কোনো খোলা জায়গায় রাখা উচিত। দেয়াল বা আলমারির আড়ালে রাখলে সিগন্যাল বাধা পায়, তাই ডিভাইসের সঙ্গে রাউটারের দূরত্ব যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন।
বিজ্ঞাপন
৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে স্যুইচ করুন: আপনার রাউটার যদি ডুয়াল-ব্যান্ড সাপোর্ট করে, তবে ২.৪ GHz এর বদলে ৫GHz ব্যান্ড ব্যবহার করুন। এতে ভিড় কম থাকে এবং ডেটা ট্রান্সফার রেট অনেক বেশি পাওয়া যায়।
চ্যানেল পরিবর্তন: অনেক সময় একই চ্যানেলে একাধিক নেটওয়ার্ক থাকায় জ্যাম তৈরি হয়। আধুনিক রাউটারের সেটিংস থেকে ম্যানুয়ালি চ্যানেল পরিবর্তন করে নিলে প্রতিবেশীর নেটওয়ার্কের হস্তক্ষেপ এড়ানো সম্ভব।

ফার্মওয়্যার আপডেট: নিয়মিত রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করলে নিরাপত্তা যেমন বাড়ে, তেমনি পারফরম্যান্সও উন্নত হয়। রাউটারটি খুব পুরনো হলে লেটেস্ট 'ওয়াইফাই ৬' স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট করে এমন মডেল আপগ্রেড করে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ওয়াইফাই ইন্টারনেট সিগন্যালের এই ক্ষতিকর দিকগুলো অনেকেরই অজানা
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করা: ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় করতে যেসব ডিভাইস বর্তমানে ব্যবহার করছেন না, সেগুলোর ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ রাখুন।
সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সামান্য কিছু কারিগরি পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনার সাধারণ ইন্টারনেট সংযোগটিকে করে তুলতে পারেন আরও শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন।
এজেড

