প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন প্রায় সব স্মার্টফোনেই টাইপ-সি (Type-C) পোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেক আইফোন ব্যবহারকারীই হাতের কাছে থাকা অ্যানড্রয়েড ফোনের চার্জার দিয়ে আইফোন চার্জ দিয়ে থাকেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি সহজ মনে হলেও, এই অভ্যাসটি আপনার লাখ টাকা দামের আইফোনটির স্থায়ী ক্ষতি বা ‘অপমৃত্যু’র কারণ হতে পারে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে আইফোন চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে এমন কিছু আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
কেন অ্যানড্রয়েড চার্জার আইফোনের শত্রু?
বিজ্ঞাপন
গ্যাজেট বিশ্লেষকদের মতে, আইফোন এবং অ্যানড্রয়েড ফোনের চার্জিং ভোল্টেজ ও প্রযুক্তিতে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইফোনের চার্জার সাধারণত ৫ থেকে ৯ ভোল্টের মধ্যে কাজ করে। অন্যদিকে, অনেক উন্নত অ্যানড্রয়েড চার্জার ৯, ১২ বা এমনকি ২০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। ভোল্টেজের এই অসামঞ্জস্যতা দীর্ঘ মেয়াদে আইফোনের ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়।

‘অ্যাপল হ্যান্ডশেক’ ও নিরাপত্তা ফিচার
আইফোনের চার্জারে থাকে ‘অ্যাপল হ্যান্ডশেক উইথ ট্রাস্টেড সিকিউরিটি’ (Apple Handshake with Trusted Security) নামক একটি বিশেষ ফিচার। এটি চার্জার ও ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড চার্জারে এই ফিচারটি না থাকায় মাদারবোর্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া বা মাদারবোর্ড বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের তফাত
কেবল তারযুক্ত চার্জিং নয়, ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও অ্যাপল ও অ্যানড্রয়েডর পার্থক্য স্পষ্ট। আইফোন ব্যবহার করে নিজস্ব ‘ম্যাগসেফ’ (MagSafe) প্রযুক্তি, যা চুম্বকের সাহায্যে নিখুঁতভাবে চার্জিং পয়েন্টে আটকে যায়। অন্যদিকে অ্যানড্রয়েড ফোনগুলো সাধারণত ‘কিউআই’ (Qi) স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে। ম্যাগসেফ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আইফোনে বিদ্যুৎ অপচয় কম হয় এবং ব্যাটারি সুরক্ষিত থাকে।

দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিন বা দুইদিন অ্যানড্রয়েড চার্জার ব্যবহার করলে হয়তো ফোনের বড় কোনো ক্ষতি চোখে পড়বে না। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে এই ভুল করলে আইফোনের ব্যাটারি হেলথ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করবে এবং ফোনটি একসময় অকেজো হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: স্যামসাং ফোনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়!
তাই শখের আইফোনটিকে দীর্ঘকাল সচল রাখতে অ্যাপল অনুমোদিত বা নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড

