প্রযুক্তির দুনিয়ায় ১০ বছর একটি বিশাল সময়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং নিত্যনতুন ফিচারের ভিড়ে যেখানে পুরোনো স্মার্টফোনগুলো অচল হয়ে পড়ে, সেখানে ২০১৬ সালে বাজারে আসা গুগল পিক্সেল-১ এখনো খবরের শিরোনামে। গুগল এই ফোনটিতে এমন এক আজীবন সুবিধা দিয়ে রেখেছে, যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী আজও এই পুরোনো ডিভাইসটি আঁকড়ে ধরে আছেন।
গুগল পিক্সেল-১: ‘আনলিমিটেড’ স্টোরেজের জাদুকরী সুবিধা
বিজ্ঞাপন
এই স্মার্টফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘আনলিমিটেড ফোটো স্টোরেজ’। গুগল তার পরবর্তী মডেলগুলোতে এই সুবিধা সীমিত করলেও, প্রথম প্রজন্মের পিক্সেল গ্রাহকদের জন্য অরিজিনাল কোয়ালিটিতে আজীবন ছবি ও ভিডিও ব্যাকআপ রাখার সুবিধা বহাল রেখেছে। ফলে কোনো মাসিক সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই ব্যবহারকারীরা তাদের হাই-রেজোলিউশন স্মৃতিগুলো সুরক্ষিত রাখতে পারছেন।
স্মৃতি রোমন্থন: ১০ বছরের মারকাটারি পারফরম্যান্স
২০১৬ সালে যখন পিক্সেল-১ বাজারে আসে, তখন এটি অ্যানড্রয়েড ৭.০ নুগেট অপারেটিং সিস্টেমে চলত। এর পারফরম্যান্স এতটাই নির্ভরযোগ্য ছিল যে, বর্তমানে অনেকের কাছে এটি সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ছবি তোলেন বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, তারা তাদের অন্য ফোনের ছবি এই পিক্সেল-১ এর মাধ্যমে ক্লাউডে আপলোড করে বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করছেন।
বিজ্ঞাপন
পিক্সেল-১ এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন
মূল গুগল পিক্সেল ফোনে ছিল ৫ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এতে প্রসেসর হিসেবে ছিল স্ন্যাপড্রাগন ৮২১ চিপসেট। ফোনটিতে ৪ জিবি এলপিডিডিআর৪ র্যাম এবং ৩২ জিবি বা ১২৮ জিবি স্টোরেজ অপশন দেওয়া হয়েছিল। ক্যামেরা সেকশনে ছিল ১২.৩ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ২,৭৭০ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনে ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক এবং ৪কে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা ছিল।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে আইফোনের রেডিয়েশন মান পরীক্ষা করবেন যেভাবে
প্রযুক্তির বিবর্তন ও পিক্সেলের অবস্থান
পরবর্তীতে গুগল পিক্সেল সিরিজের অনেক উন্নত ও এআই সমৃদ্ধ ফোন বাজারে এলেও স্টোরেজের এই অনন্য ফিচারের জন্য প্রথম প্রজন্মের পিক্সেল আজও অতুলনীয়। যেখানে বর্তমানের প্রিমিয়াম ফোনগুলোতেও স্টোরেজের জন্য মাসে মাসে টাকা গুনতে হয়, সেখানে পিক্সেল-১ এর এই ‘লাইফটাইম’ সুবিধা একে ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্মার্টফোনের মর্যাদা দিয়েছে।
এজেড

