বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) জগতের লড়াই এখন তুঙ্গে। এই লড়াইয়ের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো গুগলের জেমিনি এবং ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি। ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসছে এই দুই প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে গুগলের সর্বশেষ সংস্করণ হলো জেমিনি ৩ প্রো, আর ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে বাজারে এসেছে চ্যাটজিপিটি ৫.২।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই চ্যাটবটগুলো যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি বেড়েছে এদের কাজের পরিধিও। তবে প্রশ্ন হলো, আপনার কাজের জন্য কোনটি বেশি ভালো? জেমিনি বনাম চ্যাটজিপিটি লড়াইয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন।
বিজ্ঞাপন
জেমিনি বনাম চ্যাটজিপিটি: সর্বশেষ আপডেট
গুগলের জেমিনি ৩ প্রো আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। এটি যেকোনো বিষয়ের প্রেক্ষাপট বা কনটেক্সট অনেক গভীরভাবে বুঝতে পারে। অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটি ৫.২ মূলত প্রফেশনাল বা প্রো-লেভেলের ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জটিল কোডিং সমস্যার সমাধানে এটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ।

কার শক্তি কোথায়?
বিজ্ঞাপন
জেমিনির মাল্টিমোডাল দক্ষতা: যদি আপনার কাজে ভিডিও, ছবি এবং লেখা, এই তিন ধরনের কনটেন্টের সমন্বয় থাকে, তবে জেমিনি আপনাকে সেরা ফলাফল দেবে। গুগলের ইকোসিস্টেম ব্যবহার করে এটি মাল্টিমোডাল কাজে অত্যন্ত পারদর্শী।
চ্যাটজিপিটির স্থিতিশীলতা: বাজারে আগে আসায় চ্যাটজিপিটি এখন অনেক বেশি পরিণত। মানুষের সঙ্গে কথোপকথনে এটি বেশ স্থিতিশীল এবং সাবলীল। এছাড়া এতে রয়েছে 'কাস্টম জিপিটি' তৈরির সুবিধা এবং প্লাগইন ব্যবহারের বিশাল মার্কেটপ্লেস।
গুগল ইকোসিস্টেমের সুবিধা
জেমিনির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গুগলের সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ। জিমেইল (Gmail), গুগল সার্চ এবং ওয়ার্কস্পেসের মতো অ্যাপগুলোর সঙ্গে জেমিনি খুব সহজেই মিশে যেতে পারে। ফলে যারা গুগলের সেবা বেশি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটি কোনো নির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সব প্ল্যাটফর্মেই সমানভাবে কাজ করতে পারে।

কোডিংয়ের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
কোডিং বা প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা এখনো চ্যাটজিপিটি-এর ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন। পরিসংখ্যান এবং গুণগত বিচারে ওপেনএআই-এর মডেলটি কোডিংয়ের পারফরম্যান্সে জেমিনির তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তবে জেমিনিও দ্রুত তাদের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে।
ছবি ও মিডিয়া তৈরিতে নতুন চমক
সম্প্রতি দুটি প্ল্যাটফর্মই ইমেজ জেনারেশন বা ছবি তৈরির ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। জেমিনি ৩ প্রো-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'ন্যানো ব্যানানা প্রো' (Nano Banana Pro) মডেল। আর চ্যাটজিপিটিতে রয়েছে উন্নত ইমেজ জেনারেশন ফিচার। এখন ব্যবহারকারীর সামান্য আইডিয়া থেকেই এই এআইগুলো অত্যন্ত নিখুঁত এবং সৃজনশীল ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: চ্যাটজিপিটি’র ‘GPT’ আসলে কী? জানলে অবাক হবেন এর পেছনের প্রযুক্তি
পরিশেষে, আপনি যদি গুগলের সেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে দ্রুত তথ্য ও মাল্টিমোডাল কাজ করতে চান, তবে জেমিনি আপনার জন্য সেরা। আর যদি গভীর সৃজনশীল লেখা, কোডিং বা কাস্টমাইজড এআই টুল চান, তবে চ্যাটজিপিটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।
এজেড

