দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি কার্যকর করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)। একই সঙ্গে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’।
আরও পড়ুন: আপনার এনইআইডি দিয়ে কয়টি ফোন নিবন্ধিত জানার উপায়
সংবাদ সম্মেলনে শাওমি বাংলাদেশের প্রধান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী এক প্রেজেন্টেশনে জানান, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন কারখানায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার ৩০ শতাংশই নারী শ্রমিক। এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অবৈধ ও ক্লোন করা মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে, যা এই বিশাল দেশি বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিজ্ঞাপন
বিটিআরসিতে হামলার নিন্দা এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির মতে, দেশের প্রায় ১২ হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ী এই বিশৃঙ্খলায় জড়িত। তারা শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং বৈধ দোকানগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
সভাপতির বক্তব্য এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই এবং বিটিআরসিতে সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর পাশাপাশি স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এ সময় সংগঠনটি যেকোনো নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানায়।
এজেড
