ল্যাপটপ সবসময় চার্জে লাগিয়ে রাখা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। কেউ মনে করেন এতে কাজ সহজ হয়, আবার অনেকের উদ্বেগ, এভাবে চার্জে রাখলে কি ব্যাটারির আয়ু কমে যায়?
সম্প্রতি একটি অনলাইন আলোচনায় এই বিষয়টি ফের সামনে এসেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং ল্যাপটপের ব্যাটারি আসলে কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায় সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ল্যাপটপ কেন সারাক্ষণ চার্জে রাখা হয়?
ল্যাপটপ সারাক্ষণ চার্জে রাখতে হয়, এর কোনও একক কারণ নেই। কারও ল্যাপটপ পুরনো, ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেছে; চার্জে না রাখলে কাজই চলে না। আবার নতুন ল্যাপটপেও দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে একসময় চার্জে বসাতে হয়, কাজও চলে, চার্জও হয়।

ব্যবহারকারীদের দুশ্চিন্তা: সারাক্ষণ চার্জ কি ক্ষতিকর?
বিজ্ঞাপন
অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, ল্যাপটপ সবসময় চার্জে রাখলে ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। কারণ ক্রমাগত চার্জ ব্যাটারির চার্জ–চক্র (চার্জ সাইকেল) দ্রুত শেষ করে ফেলে। চার্জ–চক্র কমতে থাকলে ব্যাটারির আয়ু কমে যায় এবং আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না।
এ কারণে অনেকেই পরামর্শ দেন—
ল্যাপটপে ব্যাটারি চার্জ সীমা (৮০% চার্জ সীমা) ব্যবহার করুন।
অনেক আধুনিক ল্যাপটপে ৮০ শতাংশে চার্জ থামানোর সুবিধা থাকে, যা ব্যাটারিকে অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করে।
ডেস্ক–মোড শনাক্তকরণ সুবিধা
বর্তমান ল্যাপটপ নির্মাতারা এমন প্রযুক্তি দিচ্ছেন, যা বোঝে ল্যাপটপ দীর্ঘসময় ডেস্কে ব্যবহার হচ্ছে কি না। সে অনুযায়ী চার্জিং–এর ধরন বদলে দেয়—ব্যাটারি পুরোপুরি ভর্তি না করে প্রয়োজনমতো চার্জ ধরে রাখে। এতে ব্যাটারির আয়ু বাড়ে।
আরও পড়ুন: ফোনের ব্যাটারি ফুলে গেলে কী করা উচিত?
একজন ব্যবহারকারী একটি ফোরামে লিখেছেন ‘আমার ২০০৭ সালের ম্যাকবুকের ব্যাটারি ২০১০ সালে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু তখনও সপ্তাহ–জুড়ে চার্জে লাগানো রাখলে কোনও সমস্যা হতো না।’

বর্তমানের ল্যাপটপ ব্যাটারি অনেক উন্নত
আগের তুলনায় এখনকার ল্যাপটপের ব্যাটারি অনেক বেশি টেকসই। তাই সারাক্ষণ চার্জে রাখা অতীতের মতো ক্ষতিকর না হলেও—
- ব্যাটারি চার্জ সীমা ব্যবহার করা
* প্রয়োজন ছাড়া সম্পূর্ণ ১০০% চার্জ না দেওয়া
* অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়ানো
* এসব অভ্যাস মানলে ব্যাটারির আয়ু আরও বাড়ে।
সংক্ষেপে যা মনে রাখবেন
* ল্যাপটপ সারাক্ষণ চার্জে রাখলে ব্যাটারির চার্জ–চক্র দ্রুত নষ্ট হয়
* ৮০% চার্জ সীমা ব্যাটারির আয়ু বাড়ায়
* ডেস্ক–মোড শনাক্তকরণ সুবিধা ব্যাটারির উপর চাপ কমায়
* ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে প্রয়োজনমতো চার্জের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এজেড

