বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন একটি ম্যালওয়্যার। এর ফলে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা। সেই সঙ্গে বিপদের মুখে পড়ছে ব্যবহারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো। এই ম্যালওয়্য়ারটির নাম হল টক্সিক পান্ডা।
গুগল ক্রোম এবং ব্যাংকিং অ্যাপসগুলোর মতো জনপ্রিয় অ্যাপসের ছদ্মবেশ ধরে বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যাধুনিক এই ট্রোজান ম্যালওয়্যার। সাইবার নিরাপত্তা ফার্ম ক্লিফাইয়ের ইন্টেলিজেন্স টিমের পক্ষে বলা হয়েছে যে, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে টক্সিক পান্ডার কারণে ইতিমধ্যেই দেড় হাজারেরও বেশি ডিভাইসে সমস্যা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: চুরি ঠেকাতে এই ফোনে রয়েছে বিশেষ ফিচার
গবেষকদের মতে, টক্সিক পান্ডা হল একটি অর্থ-কেন্দ্রিক ট্রোজান। যা টিজে টক্সিক নামে পরিচিত। এটি আগের কোনও ম্যালওয়্যার ফ্যামিলি থেকে এসেছে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি অত্যন্ত স্পেশালাইজড। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোকে বাইপাস করার জন্য এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অননুমোদিত ভাবে টাকা তুলতে এনেবল করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এটিকে।

সাইবার অপরাধীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল, আর্থিক জালিয়াতি করার জন্য এই ট্রোজানকে কাজে লাগানো। এর জন্য অ্যানড্রয়েডের অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচারের অপব্যবহার করছে এবং ডিভাইসের উচ্চস্তরের কার্যকলাপকে কাটাছেঁড়া করে অনুমতি লাভ করার মাধ্যমে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড পেয়ে যাচ্ছে তারা। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ম্যালওয়্যারের ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থেকেই আক্রান্ত ডিভাইসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে অপরাধীরা।
বিজ্ঞাপন
কীভাবে স্মার্টফোনকে আক্রমণ করছে টক্সিক পান্ডা?
গবেষকদের ব্যাখ্যা, প্রাথমিক ভাবে সাইডলোডিংয়ের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে টক্সিক পান্ডা। ইউজাররা যখন গুগল প্লে কিংবা গ্যালাক্সি স্টোরের মতো অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া কোনও জায়গা থেকে অ্যাপ ডাউনলোড বা ইনস্টল করা হলে এমনটা হয়ে থাকে। সাইবার অপরাধীরা বিশ্বাসযোগ্য ফেক অ্যাপ পেজ তৈরি করছে। যাতে ব্যবহারকারীরা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে।
ক্লিফাইয়ের গবেষণা বলছে, টক্সিক পান্ডার উৎপত্তি চীন কিংবা হংকং থেকে।
টক্সিক পান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়
টক্সিক পান্ডা থেকে অ্যানড্রয়েড ডিভাইস সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। এর জন্য করণীয় কাজগুলো হলো-
১. শুধুমাত্র গুগল প্লে স্টোর অথবা গ্যালাক্সি স্টোরের মতো অফিসিয়াল সোর্স থেকেই ডাউনলোড করতে হবে অ্যাপ।
২. আনঅফিসিয়াল থার্ড-পার্টি সাইট থেকে সাইডলোডিং ম্যালওয়্যারের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. নিয়মিত আপডেট করতে হবে সফটওয়্যার। আসলে ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম এবং সমস্ত অ্যাপ সব সময় আপ-টু-ডেট রাখা আবশ্যক।
৪. অ্যাকাউন্টের উপর নজর রাখতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য অ্যালার্ট সেট করতে হবে।
৫. অফিসিয়াল স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও থেকে অ্যাপ ব্যবহার করার সময় কোনওরকম ইনস্টলেশন এড়িয়ে যেতে হবে।
এজেড

