ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটানোর একদম শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন জার্মানির ২৯ বছর বয়সী তারকা আলেক্সান্ডার জভেরেভ। শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) প্যারিসের লাল মাটির কোর্টে চেক প্রজাতন্ত্রের উদীয়মান তারকা জাকুব মেনসিককে চার সেটের জমজমাট লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছেন দ্বিতীয় বাছাই জভেরেভ। আগামী রবিবার (৭ জুন) মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফির লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হবেন ইতালির ১০ম বাছাই ফ্লাভিও কোবল্লির।
কোর্ট ফিলিপ শ্যাট্রিয়ারে নিজের ১১তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন বিশ্বের ৩ নম্বর খেলোয়াড় জভেরেভ। তার অভিজ্ঞতার সামনে প্রথম দুই সেটে দাঁড়াতেই পারেননি ২০ বছরের তরুণ মেনসিক। প্রথম সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জেতার পর দ্বিতীয় সেটে মাত্র ৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৬-২ ব্যবধানে জিতে নেন জভেরেভ।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয় সেটের শুরুতে ঘাড়ের ইনজুরির কারণে মেডিকেল টাইম-আউট নিয়ে কোর্টে ফিরে অবিশ্বাস্য এক কামব্যাক করেন ২৬তম বাছাই মেনসিক। ড্রপ শটের নিখুঁত ব্যবহারে ৩-৬ ব্যবধানে সেটটি জিতে নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন তিনি, যা ছিল এই টুর্নামেন্টে জভেরেভের হারানো মাত্র দ্বিতীয় সেট।
তবে চতুর্থ সেটে মেনসিকের সেই ছন্দ ধরে রাখতে দেননি জভেরেভ। টানা কিছু ব্যাকহ্যান্ড ভুলের সুযোগ নিয়ে শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। মাঝপথে লাইনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেফারির সাথে তর্ক করে দর্শকদের কিছুটা দুয়ো শুনলেও এবং টাইম ভায়োলেশনের শিকার হলেও প্রথম ম্যাচ পয়েন্টেই ৬-৩ ব্যবধানে সেট ও ম্যাচ জিতে কোর্ট ছাড়েন জভেরেভ। ম্যাচ শেষে হাস্যোজ্জ্বল জভেরেভ মজা করে বলেন, "মাথা একদম ফাঁকা, কিচ্ছু নেই! আমরা খেলোয়াড়, আমাদের খুব কম জনের মাথায়ই কিছু থাকে। মাঝে মাঝে বেশি না ভেবে বোকা থাকাটাই অনেক সহজ"।
ফাইনালের অন্য টিকিটটি নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল অল-ইতালিয়ান সেমিফাইনালে। কিন্তু বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১০৪ নম্বর তারকা মাতেও আরনাল্ডির গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রূপকথার যাত্রা থমকে গেল এক রহস্যময় ভাইরাসের কারণে। তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডে ম্যারাথন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে আসা আরনাল্ডি ম্যাচ শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তীব্র মাথা ঘোরা ও অসুস্থতার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন।
ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই সরাসরি ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পৌঁছে যান তারই স্বদেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফ্লাভিও কোবল্লি। আরনাল্ডির এই বিদায় নিয়ে আবেগাপ্লুত কোবল্লি বলেন, "ও যখন এক ঘণ্টা আগে এসে খবরটা দিল, আমার কান্না চলে এসেছিল। তবে একই সাথে ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুশি"। কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার ফেলিক্স ওজে-আলিয়াসিমকে হারিয়ে চমকে দেওয়া কোবল্লিও পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ২টি সেট হারিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
২০২০ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটের লিড নিয়েও ডমিনিক থিমের কাছে হার কিংবা ২০২৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে কার্লোস আলকারাসের কাছে স্বপ্নভঙ্গ- গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে জভেরেভের ইতিহাস কেবলই ট্র্যাজেডিতে ভরা। একই সাথে বিগত ১৪ মাস ধরে কোনো শিরোপা জিততে না পারার খরাতেও ভুগছেন তিনি। তবে জানিক সিনার এবং নোভাক জকোভিচের মতো হেভিওয়েটরা টুর্নামেন্টের শুরুতেই বিদায় নেওয়ায় এবার জভেরেভের সামনে এটিই সেরা সুযোগ। কোবল্লির বিরুদ্ধে হেড-টু-হেড রেকর্ডে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা জভেরেভ রবিবার কি পারবেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম ‘মেজর’ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে, নাকি কোবল্লির হাত ধরে ইতালি পাবে এক নতুন চ্যাম্পিয়ন- এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় টেনিস দুনিয়া।




