টেনিসের ইতিহাসে রূপকথা কাকে বলে, তা যেন আরও একবার দেখিয়ে দিলেন পোল্যান্ডের ২৪ বছর বয়সী তরুণী মায়া সওয়ালিনস্কা। ফ্রেঞ্চ ওপেনের (রোলঁ গ্যারোস) মেয়েদের একক বিভাগে রাশিয়ার ২৫তম বাছাই ডায়ানা শ্নাইডারকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পা রাখলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১১৪ নম্বর এই কোয়ালিফায়ার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) প্যারিসের ঐতিহাসিক কোর্ট ফিলিপ শ্যাট্রিয়ারে টেনিসের উন্মুক্ত বা ‘ওপেন এরা’র ইতিহাসে এক বিরল নজির স্থাপন করলেন সওয়ালিনস্কা। ২০২১ সালে ইউএস ওপেনে এমা রাদুকানু যেভাবে বাছাইপর্ব বা কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলে মূল ড্র-তে এসে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন, দীর্ঘ ৫ বছর পর সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন এই পোলিশ তারকা। এর আগে তিন তিনবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ালিফাইং পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া সওয়ালিনস্কা এবার মূল ড্র-তে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে বাছাইপর্বসহ টানা ৯টি ম্যাচ জিতে এখন বিশ্বজয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শ্নাইডারের শক্তিশালী পাওয়ার-হিটিং শটের বিপরীতে সওয়ালিনস্কা কোর্টে দেখিয়েছেন তার চেনা বৈচিত্র্যময় গেমপ্লে। প্রথম সেটটি টাই-ব্রেকারে ৭-৬ ব্যবধানে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও লড়াই ছিল সমানে-সমানে। তবে ৪-৩ গেমের মাথায় শ্নাইডার পিঠের ইনজুরির জন্য মেডিকেল টাইম-আউট নেওয়ার পরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন সওয়ালিনস্কা এবং টানা ৩টি গেম জিতে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ পয়েন্ট পাওয়ার সাথে সাথেই কোর্টে লুটিয়ে পড়েন এই আবেগাপ্লুত তারকা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "এটি পুরোপুরি একটি স্বপ্নের মতো! আমি স্রেফ প্রচণ্ড শকড এবং অভিভূত হয়ে পড়েছি। বাইরে থেকে আমাকে বরফ-শীতল বা শান্ত দেখালেও বিশ্বাস করুন, আমার মনের ভেতর একটা সুনামি বা ঝড় চলছিল। আসুন আমরা ভান না করি যে কেউ আমার কাছ থেকে এটা আশা করেছিল। আমি শীর্ষ ১০০-র বাইরে থেকে এসে আজ গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে!"
আগামী শনিবার (৬ জুন) ফ্রেঞ্চ ওপেনের মেগা ফাইনালে টেনিস বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক মহারণ। যেখানে ১১৪ নম্বর সওয়ালিনস্কার মুখোমুখি হবেন প্রথম সেমিফাইনালে কস্ত্যুককে উড়িয়ে দেওয়া রাশিয়ার ১৯ বছর বয়সী অষ্টম বাছাই মিরা আন্দ্রিভা।
এই ফাইনালে উঠার মাধ্যমেই সওয়ালিনস্কা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১৪ থেকে এক লাফে সরাসরি ২১ নম্বরে উঠে আসা নিশ্চিত করে ফেলেছেন। আর যদি শনিবার তিনি শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারেন, তবে সরাসরি ঢুকে যাবেন বিশ্বের শীর্ষ ১৫ জন টেনিস তারকার এলিট ক্লাবে। রোমাঞ্চকর এই ফাইনালের আগে সওয়ালিনস্কা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমি আমার জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেব। আপাতত একটু শান্ত হয়ে শ্বাস নিতে চাই। বাকি সব ভুলে আমার লক্ষ্য এখন স্রেফ আর একটি ম্যাচ!"




