ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে শুরুর একাদশে থাকা এই মহাতারকা বিশ্ব ফুটবলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
একই সঙ্গে দেশের জার্সিতে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে স্পর্শ করেছেন আরেকটি বিরল মাইলফলক। তার আগে এই রেকর্ড গড়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাভা। তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেসি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ডের মালিক হওয়া মেসির সামনে এবার ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জন।
২০২২ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতান লিওনেল মেসি। এবারের আসরেও তার নেতৃত্বেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে আলবিসেলেস্তেরা। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও ১০ নম্বর জার্সিতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। বিশ্বকাপে রেকর্ড পঞ্চমবার এই জার্সি পরে খেলতে নেমে পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক চারটি বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মেসির দখলে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ মিলিয়ে এরই মধ্যে ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়বে, আর রেকর্ডটিও নিয়ে যেতে পারেন অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গোলের রেকর্ডেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরুর আগ পর্যন্ত পাঁচ বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা ১৩। ২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধে আরও এক গোল করেছেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৪টিতে। সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। আর তিনটি গোল করতে পারলেই সেই রেকর্ড নিজের করে নেবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গ্রুপ পর্বেই সেই কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
বিজ্ঞাপন
২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। শুধু ২০১০ বিশ্বকাপেই জালের দেখা পাননি। ২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধে আরও এক গোল করে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। বর্তমানে এই রেকর্ডের একমাত্র মালিক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
অ্যাসিস্টের রেকর্ডেও ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা আটটি, যা আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ। একই সংখ্যক অ্যাসিস্ট রয়েছে ম্যারাডোনারও। এবারের আসরে আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই দেশটির হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হবেন মেসি। আর দুটি অ্যাসিস্ট করতে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনেও বসবেন তিনি।
আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে। এখন পর্যন্ত কোনো অধিনায়ক দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। মেসি এবার আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে পারলে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়বেন। আর আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে ওঠে, তবে তিনবার দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা প্রথম অধিনায়ক হবেন তিনি।
এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে তার নেতৃত্বেই ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একবার শিরোপা জিতেছে, একবার রানার্সআপ হয়েছে।
এমআর




