ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে দীর্ঘ ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের রেলিগেশন জোন বা অবনমন অঞ্চলে নেমে গেছে ঐতিহ্যবাহী রেড ডেভিলরা। যার ফলে দলটির প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপের পাহাড় চেপে বসেছে।
নটিংহ্যাম ফরেস্ট ৩-১ ব্যবধানে ম্যানচেস্টার সিটিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলের নিচে নেমে ১৯তম স্থানে চলে যায় ইউনাইটেড।
অন্তত ৯টি করে ম্যাচ খেলার পর ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে শেষ তিনটি দলের মধ্যে নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল সবশেষ ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে। সেবার ১৫ ম্যাচ শেষে লিগ টেবিলের ২১ নম্বর স্থানে ধুঁকছিল ক্লাবটি। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে চাকরি হারাতে হয়েছিল তৎকালীন ম্যানেজার রন অ্যাটকিনসনকে। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন- যার পরবর্তী অধ্যায় ফুটবল ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা।
চার দশক পর আবারো ইউনাইটেডের সামনে সেই একই অন্ধকার সময়ের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। দলের এমন আশঙ্কাজনক পতন ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ক্যারিক।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে রোববার। সান্ডারল্যান্ড যদি চেলসিকে হারিয়ে দেয় এবং ক্রিস্টাল প্যালেস ঘরের মাঠ সেলহার্স্ট পার্কে লিভারপুলের বিপক্ষে হার এড়াতে পারে, তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে (২০তম স্থানে) নেমে যেতে পারে ইউনাইটেড।
গত ৩০ আগস্ট প্রমোটেড হওয়া ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ ব্যবধানে হারানোর পর প্রিমিয়ার লিগে আর কোনো জয়ের মুখ দেখেনি ইউনাইটেড। মাঝখানে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের নাটকে ঠাসা জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও প্রিমিয়ার লিগে দলের অবস্থান ক্যারিকের ভবিষ্যতকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। উনাই ইমেরির অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হারলে সেটাই হয়তো ক্যারিকের ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে পারে।
তবে দলের খেলোয়াড়দের ওপর এখনও আস্থা রাখছেন রেড ডেভিলদের এই সাবেক মিডফিল্ডার। অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রোমার বিপক্ষে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে জানিয়ে ক্যারিক বলেন, "অবশ্যই রোমা ম্যাচের জয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা এতেই খুব বেশি ভেসে যাচ্ছি। আমার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমি ইতিবাচক যা দেখার দেখেছি। আমাদের সামর্থ্য কতটুকু তা আমি জানি এবং আমরা সবাই জানি আমরা কী করতে পারি। সম্প্রতি হয়তো আমরা মাঠে সেটা নিয়মিত প্রমাণ করতে পারিনি, তবে আমাদের সেই ক্ষমতা আছে। ছেলেরা অনুশীলনে দারুণ পরিশ্রম করছে।"




