শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হাসানের ৬ উইকেটের পরও হতাশায় দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

হাসানের ৬ উইকেটের পরও হতাশায় দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

হাসান মাহমুদের পেস তান্ডবের দিনেও টেস্টে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বিশাল সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং করেন পেসার হাসান মাহমুদ। আগের দিনের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে যোগ করে আরও ১২১ রান। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ৩৫৬ রানে।

নতুন বল হাতে নিয়েই ক্যারিবীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন হাসান। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে ১৩৩ রানে বোল্ড করার পরের বলেই রস্টন চেইসকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে ফেরান তিনি। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত তা পূর্ণ হয়নি। এরপর জশুয়া বিশপকে লিটন দাসের চতুর স্টাম্পিংয়ে আউট করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট শিকারের অনন্য ইতিহাস গড়েন হাসান।

এই ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন এককভাবে হাসানের দখলে। পাশাপাশি, ইতিহাসের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটই ভিন্ন ভিন্ন দেশে নেওয়ার দুর্লভ কীর্তিও গড়েছেন এই ডানহাতি পেসার। ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান, আর মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে যায় বাকি উইকেটগুলো।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম না থাকায় ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। তবে ৮ রানের বেশি টেস্টে কখনো ব্যাট না করা নাঈম জেইডেন সিলসের শিকার হন। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ, করেন মাত্র ১৬ রান।

দলীয় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অতি সতর্ক থেকেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। শামার জোসেফের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ৫১ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফলে ৫৩ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে যখন দলীয় ইনিংস ধুঁকছিল, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাওহিদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। বিপর্যয় সামাল দিয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দিন পার করেন তারা। অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন হৃদয় (২৯*) ও মুশফিক (১৯*)। তৃতীয় দিনের সকালে এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর