ইস্তাম্বুলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে দু-দুবার পিছিয়ে পড়েও ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে ফেনেরবাচে। আর এই হারের মধ্য দিয়ে ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতায় অ্যানডোনি ইরাওলার দলের শতভাগ জয়ের ধারার সমাপ্তি ঘটল।
বৃহস্পতিবার রাতের এই ম্যাচে স্বাগতিকদের পক্ষে ৭৯তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ভেদাত মুরিচি। এর ঠিক ৬ মিনিট আগে আর্চি ব্রাউনের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ফেনেরবাচে। অন্যদিকে ট্রে নয়োনি ও আলেকজান্ডার ইছাকের গোলে দুবার এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় অলরেডরা। চার ম্যাচে এটি ফেনেরবাচের প্রথম জয়, অন্যদিকে প্রথম তিন ম্যাচ জেতা লিভারপুল মরসুমের প্রথম ইউরোপীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ট্রে নয়োনির ফাস্ট-টাইম শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারে দিক পরিবর্তন করে এডারসনকে পরাস্ত করলে এগিয়ে যায় লিভারপুল (১-০)। তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি তারা। ২৯তম মিনিটে মেসন গ্রিনউডের নেওয়া ফ্রি-কিক লিভারপুল ডিফেন্ডার জেরেমি জ্যাকুয়ের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে গেলে সমতায় ফেরে ফেনেরবাচে। ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৬৯তম মিনিটে খুব কাছ থেকে পাওয়া ক্রস থেকে হেডে চমৎকার গোল করে লিভারপুলকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইছাক।
তবে ঘরের মাঠে লড়াই ছাড়েনি তুর্কি ক্লাবটি। ৭৩তম মিনিটে কোডি গাকপো ও লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান আর্চি ব্রাউন (২-২)। এর ঠিক ৬ মিনিট পর (৭৯তম মিনিট) ফের অলরেডদের স্তব্ধ করে দেয় স্বাগতিকরা। ব্রাউনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল কর্নারে পাঠিয়ে ফেনেরবাচেকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মুরিচি।
ম্যাচের শেষদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। শেষ মুহূর্তের কর্নারে গোলরক্ষক আলিসনও ফেনেরবাচের বক্সে উঠে আসেন। তবে স্বাগতিক ডিফেন্স শক্ত হাতে তাদের সব আক্রমণ প্রতিহত করে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়টি ফেনেরবাচের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ডির্ক কয়েটের জন্য ছিল বিশেষ কিছু, যিনি খেলোয়াড়ি জীবনে লিভারপুলেরই তারকা ফরোয়ার্ড ছিলেন। ইসমাইল কারতালের বিদায়ের পর তিনি দলটির অস্থায়ী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই জয়ের পর ৪ ম্যাচে ফেনেরবাচের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ পয়েন্ট, অন্যদিকে হেরেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক স্থানেই রয়েছে লিভারপুল।




