মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

যে কালো অধ্যায়ে তছনছ হয়েছিল পাকিস্তানের সোনালী প্রজন্ম

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

যে কালো অধ্যায়ে তছনছ হয়েছিল পাকিস্তানের সোনালী প্রজন্ম

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও কালো অধ্যায় হলো ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি। এই ঘটনায় পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট এবং পেসার মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের নাম জড়িয়ে পড়লে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচের সুনির্দিষ্ট মুহূর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে নো বল করে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। মূলত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও আইনি তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তিন ক্রিকেটারকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে সংঘটিত এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছিলেন ব্রিটিশ আন্ডারকভার সাংবাদিক মাজহার মাহমুদ। সে সময় তিনি ক্রিকেট বিশ্বে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মূল শেকড় সন্ধানে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে পাকিস্তান দলের টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে মাজহার মজিদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পেয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই সাংবাদিক। 

নিজেকে একজন প্রভাবশালী ও ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি ভুয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন মাহমুদ। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজিদ দাবি করেন, তার নিয়ন্ত্রণে এমন কিছু শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার আছেন যারা এই ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। পরবর্তীতে দেড় লাখ পাউন্ডের একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে নির্ধারিত টেস্ট ম্যাচের নির্দিষ্ট ওভারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নো বল করে জুয়াড়িরা বেটিংয়ের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।

লর্ডস টেস্টের ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী পেসার মোহাম্মদ আসিফ একটি এবং তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমির দুটি নির্দিষ্ট নো বল করেন। পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয় যে তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাটের সরাসরি ইশারা ও নির্দেশেই বোলাররা এই অপরাধমূলক কাজ করেছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক তদন্ত শেষে এই ঘটনায় তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সালমান বাট ১০ বছর, মোহাম্মদ আসিফ ৭ বছর এবং মোহাম্মদ আমির ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। 

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আমির পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও একসময় নিজেই চিরতরে সরে দাঁড়ান। এই কেলেঙ্কারি কেবল ওই তিন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারই ধ্বংস করেনি, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান দলের ভাবমূর্তিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও কলঙ্কজনক দাগ ফেলে দেয়।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর