আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় পা রাখাটাই যেখানে একসময় এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ছিল, আজ বিশ্বমঞ্চে সেই দলটির নামই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর জন্য। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক রূপকথা লিখে চলেছে আফগানিস্তান। আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদে বড় এক উল্লম্ফন ঘটিয়ে সেরা ছয়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছে আফগানরা। ওয়ানডে ফরম্যাটের ইতিহাসে এটি দলটির সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থান।
২০০৯ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের পর থেকেই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল দলটি। এরপরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও সুদৃঢ় করে আফগানরা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সেই ধারাবাহিকতা আজও সমানতালে বজায় রেখেছে তারা।
এখন পর্যন্ত খেলা ১৯১টি ওয়ানডে ম্যাচের ৯৬টিতেই জয় তুলে নিয়েছে তারা, যেখানে তাদের জয়-পরাজয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১.০৯-এ। সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে ৬ নম্বর আসনটি দখল করেছে তারা। এর আগে থেকেই বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো তাদের পেছনে রয়েছে।
রশিদ খানের দল সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে নামলেই ছড়াচ্ছে সাফল্যের দ্যুতি। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার দারুণ এক সুখস্মৃতি রয়েছে তাদের ঝুলিতে। এর পরপরই জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও দারুণ পারফরম্যান্স করে অপরাজিত থাকে আফগানিস্তান। শুধু ওয়ানডে নয়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তাদের আধিপত্য স্পষ্ট। সম্প্রতি জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই করার পর, এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।




