টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের নেতৃত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়ার পর থেকেই পরিসংখ্যানের মাপকাঠিতে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারকে। সূর্যকুমার যাদবের আকাশচুম্বী সাফল্যের রেকর্ডের বিপরীতে আইয়ারের শুরুর পথচলা কিছুটা মলিন হলেও কঠিন সেই সময়ে তার প্রধান ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আইয়ারের নেতৃত্বকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের আগের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অধীনে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছিল টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ৫২ ম্যাচের মধ্যে রেকর্ড ৪০টিতেই জয়ের দেখা পেয়েছিল ভারত, হেরেছিল মাত্র ৮টিতে। তার অধীন কোনো সিরিজ না হারানোর পাশাপাশি ভারত বিশ্বজয়ের স্বাদও পেয়েছিল।
অন্যদিকে, শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৪টিতে জয় পেয়েছে দল, আর পরাজয় দেখতে হয়েছে ১০টিতে। পরিসংখ্যানের এই ব্যবধানে আইয়ারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। তবে নিউজিল্যান্ড সফরে ৩-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর কোচের কণ্ঠে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে দল আগেই সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ দুই ম্যাচে কিউইদের কাছে হোঁচট খায় ভারতীয়রা।
নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে দলের পারফরম্যান্স এবং আইয়ারের নেতৃত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর দলীয় সীমাবদ্ধতার দিকটি তুলে ধরেন। যদিও দলে ভুবনেশ্বর কুমার ও অর্শদীপ সিংয়ের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা ছিলেন, তবুও মায়াঙ্ক যাদব কিংবা প্রিন্স যাদবের মতো তরুণ ও অনভিজ্ঞ মুখগুলোর আধিক্য ছিল। তাছাড়া নিয়মিত একাদশে বুমরাহ, সিরাজ, হার্দিক, কুলদীপ বা বরুণ চক্রবর্তীর মতো পরীক্ষিত পারফর্মারদের পাননি আইয়ার।
এই বাস্তবতাকে সামনে এনে গম্ভীর বলেন, ‘অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়েও আইয়ার দুর্দান্ত কাজ করেছে। একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো হতে পারে, যতটা তার বোলার ও ব্যাটাররা সাহায্য করে। এই বোলিং লাইনআপ নিয়ে এর চেয়ে ভালো কিছু করা কঠিন ছিল।’ একইসঙ্গে দলের ৭০-৮০ শতাংশ খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলতে এসে যেভাবে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় কোচ।
টি-টোয়েন্টি অধ্যায় চুকিয়ে এবার আসন্ন ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান গৌতম গম্ভীর। পরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার সুযোগ মেলেনি বলে জানান তিনি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘কিউইদের কন্ডিশনে ওয়ানডে ও টেস্টের চ্যালেঞ্জ সব সময়ই সবচেয়ে কঠিন। তাই আমাদের এখন থেকেই নিখুঁত পরিকল্পনা সাজাতে হবে, যাতে এই সিরিজগুলোও নিজেদের করে নেওয়া যায়।’




