রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সিরিজ হেরে টেস্ট দলে পরিবর্তনের পথে অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সিরিজ হেরে টেস্ট দলে পরিবর্তনের পথে অস্ট্রেলিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া টেস্ট স্কোয়াডে পরিবর্তনের বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। একই সঙ্গে দলে ‘কঠোর মানসিকতার’ অভাব নিয়েও আফসোস প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে পঞ্চম দিনে প্রোটিয়া স্পিনার সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে দল হারলেও, টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন অজি অধিনায়ক।

ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও কেপটাউনে ১৭৬ রানের পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পাঁচ টেস্টের তিনটিতেই পরাজিত হলো তারা, যা তাদের আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান থেকে টেনে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। মে ২০২৪-এর পর এই প্রথম ১ নম্বর অবস্থান হারাল অজিরা এবং আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিলে তারা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

আগামী ৯ ডিসেম্বর পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবার মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। তবে কেপটাউন টেস্টে ০ ও ৪ রান করে টানা ১৬ ইনিংসে ফিফটিহীন থাকা মার্নাস লাবুশেনের দলে জায়গা এখন চরম অনিশ্চিত। ঘাড়ের চোট কাটিয়ে স্টিভ স্মিথ ফিরলে লাবুশেনের জায়গায় ব্যাটিং অর্ডারে আসবে রদবদল। একই সঙ্গে সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত অলআউট করতে না পারার বিষয়টিও এখন কড়া নজরদারিতে।

"টানা দুই ম্যাচ হেরে একটি টেস্ট সিরিজ হারানোর পর দল নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা নিজেরাও ড্রেসিংরুমে বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের প্রশ্ন করব। আমরা নিঃসন্দেহে সেরা একটি দল, কিন্তু এক নম্বরে ফিরতে হলে আমাদের আরও একটু উন্নতি করতে হবে। এর জন্য খেলায় কৌশলের পরিবর্তন কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে খেলোয়াড়দের পরিবর্তন আনা লাগতে পারে। আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।"

প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৯ রানে অলআউট করাকে অস্ট্রেলিয়াকে খেলায় এগিয়ে রেখেছিল বলে মনে করেন কামিন্স। যদিও টসের সময় প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা জানিয়েছিলেন তিনি আগে ব্যাটিং করতেই পছন্দ করতেন এবং ম্যাচ শেষেও তিনি উল্লেখ করেন যে পরিস্থিতি তাদের পক্ষেই গেছে।

জবাবে কামিন্স বলেন, "আপনাকে সবসময় ভিন্ন ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। আমরা জানতাম এটি রান তোলার পিচ। আমরা ভেবেছিলাম প্রথম দিনে উইকেটে আরও একটু সাহায্য পাওয়া যাবে, তবে টস জিতে কেউই প্রতিপক্ষকে ১০০ বা ২০০ রানে অলআউট করার চিন্তা করে না।"

পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যেই মনে করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দিনশেষে আরেকটি বড় ব্যাটিং ধসের পর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি অজি অধিনায়ক।

কামিন্স বলেন, "পঞ্চম দিনের উইকেট হওয়া সত্ত্বেও এটি রান তোলার মতো পিচ ছিল। কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের ডুবিয়েছে। একটা বিষয় হচ্ছে স্পিনকে আমরা হয়তো একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছিলাম। নিজেদের রক্ষণাত্মক ব্যাটিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে লম্বা সময় টিকে থাকা যেত, কিন্তু আমরা নিজেদের সেই সুযোগটাই দিইনি।"

ডারবান টেস্ট জেতার পর এভাবে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন অজি দলপতি। কারণ এই স্কোয়াডের অনেকের জন্যই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটিই ছিল শেষ টেস্ট সিরিজ।

কামিন্স হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকার পর এভাবে হাতছাড়া হওয়াটা কষ্টের। ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) আবার কবে আসবে জানি না, তবে আমাদের অনেকের জন্যই দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে বড় সিরিজ খেলার এটাই ছিল শেষ সুযোগ। কিন্তু আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি।"

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর