ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচ এলেই যেন স্পিন উইকেটের ভূত চেপে বসে টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায়। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, মিরপুরের উইকেটে ঘূর্ণি জাদু দেখতে চাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। অথচ পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে অন্য কথা। স্পিনিং ট্রাকে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী, যা দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে পেছিয়েই দিচ্ছে।
দীর্ঘ দুই দশকের টেস্ট ইতিহাসে মিরপুরের স্পিনিং উইকেটে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের ঝুলি মোটে দুটি টেস্টের। এর মধ্যে একটি ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং অন্যটি ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়। অজিদের হারানোর সেই সোনালী স্মৃতি এখনও সমর্থকদের মুখে মুখে ফেরে এবং বছরের পর বছর তা উদযাপন করা হয়।
এই হাতে গোনা কয়েকটি সাফল্যই যেন এক ধরনের মোহ তৈরি করেছে। বাস্তবতা হলো, নিজেরা স্পিনের বিপক্ষে কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে। সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ভরাডুবি সেই অন্ধ বিশ্বাসকেই নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে স্পিনের সামনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে। বিশেষ করে সে সময় দলে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের মতো ব্যাটাররা স্পিন দারুণভাবে সামলাতেন, আর সাকিবের বোলিং তো ছিল অনন্য।
তবে বর্তমান বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ছাড়া বাকিদের স্পিন খেলার ক্ষেত্রে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা ঢাকতে বাংলাদেশ দল সাধারণত তাইজুল ইসলাম বা মেহেদী হাসান মিরাজের মতো স্পিনারদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে ম্যাচ জেতার ছক কষে। কিন্তু প্রতিপক্ষের স্পিন শক্তির কথা প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়। ফলস্বরূপ, আফগানিস্তান, ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে টাইগারদের।
ঘূর্ণি উইকেটের মোহে আটকে না থেকে ব্যালেন্সড বা স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সুফলও কিন্তু মিলেছে। যেমনটা দেখা গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে। সেই সাফল্যের পেছনের মূল নায়ক ছিলেন দলের পেসাররাই।
এসটি




