প্রিমিয়ার লিগে রোমাঞ্চকর ও অঘটনে ভরা এক সপ্তাহের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লাল কার্ড ও রক্ষণভাগের চরম ভুলে চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে ধুঁকতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই পরাজয়ে কোচ মাইকেল ক্যারিকের চাকরি হারানোর শঙ্কা আরও তীব্র হলো। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নিজেদের ইতিহাসে প্রিমিয়ার লিগে সিটির বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ব্রাইটন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোছানো ফুটবল খেলে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাথিউ কুনিয়ার একটি হেড জালে জড়ালেও ভিএআর প্রযুক্তির কল্যাণে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ব্রুনো ফার্নান্দেস ও আমাদ দিয়ালো বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
বিরতির পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ৫০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পাওয়া রোমিও লাভিয়ার বল ধরে দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে চিপ শটে চেলসিকে এগিয়ে নেন মরগান রজার্স। এর কিছুক্ষণ পর ৬৪ মিনিটে চেলসির ওয়েসলি ফোফানার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করায় ভিএআরের সাহায্যে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তিন মিনিট আগেই রজার্সকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। সেই সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন কোল পালমার।
ম্যাচের শেষদিকে ব্রায়ান এমবেমোর শট বারে লেগে প্রতিহত হলে সান্ত্বনার গোল থেকেও বঞ্চিত হয় অতিথিরা। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল চেলসি। বিপরীতে, টানা তিন ম্যাচ হেরে রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে থাকা ম্যানইউ পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম অবস্থানে নেমে গেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেড ডেভিলরা এখন টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন।
এদিকে কয়েক দিন আগেই লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাইটনকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে প্রিমিয়ার লিগে সেই প্রতিপক্ষের কাছেই আর পেরে উঠল না পেপ গার্দিওলার দল (বর্তমানে এনজো মারেস্কার অধীনে)। ঘরের মাঠে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় আর্লিং হালান্ডরা।
ম্যাচের ১১ মিনিটে লুইস ডাঙ্কের লম্বা পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে এগোতে থাকেন দিয়েগো গোমেস। তার নিচু ক্রস সিটির ম্যাথেউস নুনেস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল ম্যাক্সিম দে কাইপারের পায়ে লেগে চলে আসে সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারির কাছে। কাছ থেকে দারুণ শটে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল প্রমাণিত হয়।
পুরো ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় সিটি। রিয়ান শেরকি, ইলিমান এনদিয়ায়ে ও জেরেমি ডোকুরা সুযোগ তৈরি করলেও ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাও প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণে যোগ দেন, তবুও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
এই জয়ে ইতিহাদে প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচ পর প্রথম জয়ের দেখা পেল ব্রাইটন। একই সঙ্গে সিটির ইতিহাদে টানা ২৪ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতারও অবসান ঘটাল তারা। এই হারের পরও ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সিটি, তবে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে এক ম্যাচ কম খেলা আর্সেনাল। আর ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রাইটন।




