ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় হারের পর হতাশা লুকিয়ে রাখেননি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটের চরিত্র বুঝতে ভুল করা, বোলিংয়ে লাইন-লেংথ বজায় রাখতে না পারা এবং প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই এই হারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। শান্ত মনে করেন, ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচ জেতার বাস্তব সুযোগ ছিল টাইগারদের সামনে, কিন্তু মাঠে তার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে শান্ত বলেন, উইকেটের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় ১৭০ রান ডিফেন্ড করা মোটেও অসম্ভব ছিল না। তবে ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে বোলিংয়ের সময় স্পিনার ও পেসারদের লেংথ অনেকটাই এলোমেলো ছিল।
মাত্র দুটি উইকেট শিকার করতে পারায় প্রতিপক্ষ সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। শান্তর মতে, অন্তত সাত-আটটি উইকেট ফেলতে পারলে বোঝা যেত প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ আসলেই কম ছিল কি না।
উইকেট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে শান্ত পরিষ্কার করেছেন যে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল বা অন্য কোনো দূরের সমীকরণ মাথায় রেখে এই কন্ডিশন বানানো হয়নি। বরং প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিচার করেই স্পিননির্ভর উইকেট প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা অতীতেও দলকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে।
কিন্তু পরিকল্পনা মাঠে কার্যকর না হলেও উইকেট নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে নারাজ তিনি। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বিপক্ষেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অধিনায়ক।
মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি বা স্বল্প প্রস্তুতির প্রসঙ্গ তুললেও শান্ত সেগুলোকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি। তার মতে, পেশাদার ক্রিকেট খেলে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তবে নিজের ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি।
দলের একজন দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে প্রথম ইনিংসে বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। শান্তর বিশ্বাস, তিনি ক্রিজে টিকে বড় রান করতে পারলে দলের স্কোর আরও অনেকদূর যেতে পারত।




