পেশাদার ক্রিকেট থেকে মাত্র ২৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেছেন আয়ারল্যান্ডের লেগস্পিনার বেন হোয়াইট। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৪৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার গত বছরের ডিসেম্বরে শেষবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। পেশাদার ক্রিকেট ছাড়ার পর তিনি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান 'পারসোনিও' তে 'বিজনেস ডেভেলপমেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ' হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেছেন।
২০২১ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় হোয়াইটের। আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রিস্টস্পিন খরা কাটাতে তাকে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ৩৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ৩৬টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০২১ (সংযুক্ত আরব আমিরাত), ২০২৪ (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ২০২৬ (শ্রীলঙ্কা)- ক্রমাগত তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আইরিশ স্কোয়াডে থাকলেও মূল একাদশে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মাত্র ৩টিতে।
দীর্ঘ ফরম্যাটে অবশ্য তাকে নিয়মিত দেখা যায়নি; ২০২৩ সালে ২টি ওয়ানডে এবং ৩টি টেস্ট খেলেছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের ইনিংসে ৩টি উইকেট নিলেও, পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কায় অভিজ্ঞতা ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে পরপর দুই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারা আয়ারল্যান্ডের হয়ে তিনি ৩২২ রান খরচ করে পান মাত্র ১টি উইকেট।
নিজের পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে অবসরের ঘোষণা দিয়ে বেন হোয়াইট লেখেন, "এক অবিশ্বাস্য যাত্রা শেষে অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি এবং 'পারসোনিও'-তে যোগ দিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলা এবং তিনটি আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো আমি আজীবন গর্বের সাথে মনে রাখব। দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ও স্বপ্ন পূরণের জন্য ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডকে অনেক ধন্যবাদ।"
আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ গ্যারি উইলসন তার বিদায়ে বলেন, "যদিও সে তিন ফরম্যাটেই খেলেছে, তবে বেন সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য। বলের গতি এবং বাড়তি বাউন্স আদায় করার দারুণ ক্ষমতা ছিল তার। টানা তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়াটাই প্রমাণ করে দলে তার গুরুত্ব কতটা ছিল। নিজের অর্জনে তার গর্বিত হওয়া উচিত।"




