অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী শতক এবং বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ইনিংসে ওয়েলিংটনে মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারাল ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২ ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩.২ ওভারেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক ও সূর্যবংশী মিলে মাত্র ৭.১ ওভারে যোগ করেন ১৩৩ রান, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ও তাণ্ডবময় সূচনা হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
ইনিংসে নিজের প্রথম ওভার করতে এসে জ্যাকব ডাফি দেন ২৬ রান। এরপর আর নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ দেননি ভারতীয় দুই ওপেনার।
মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন অভিষেক শর্মা। ৯টি চার ও ১১টি দর্শনীয় ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি শেষ হয় কাইল জেমিসনের বলে। সাজঘরে ফেরার সময় গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে করতালি (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) পান এই ভারতীয় বাঁহাতি ব্যাটার। অভিষেক যখন আউট হন, ততক্ষণে মাত্র ১০ ওভারেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৭৮ রান।
নিজের ঝড়ো ব্যাটিং ও জুটি নিয়ে ম্যাচ শেষে অভিষেক বলেন, "পরিকল্পনা খুবই সহজ ছিল- আমি ও বৈভব মাঠের সময়টা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। ফিল্ডিং করার সময় আমরা লক্ষ্য করেছি যে পিচে কিছুটা অতিরিক্ত বাউন্স ছিল। বৈভব দারুণ সূচনা করেছিল এবং সেখান থেকেই আমরা গতি বজায় রাখি।"
আগের ম্যাচে তিন নম্বরে খেলা সূর্যবংশীকে এই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। ১৯ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ রান করে দলের আস্থার সঠিক প্রতিদান দেন তিনি। দুই ওপেনারের এমন ব্যাটিং দেখে ম্যাচ শেষে বিস্ময় প্রকাশ করেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র ৫ ওভারে দলের ১০০ রান হতে আমি আগে কখনো দেখিনি। যে প্রশংসা তাদের প্রাপ্য, তা দেওয়া উচিত। তারা যেভাবে খেলেছে তা সত্যিই অসাধারণ।"
এর আগে ম্যাচে টস জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বোলিংয়ের শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার ও আরশদীপ সিং পিচের সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে কিউই দুই ওপেনার টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনকে বেশ চাপে ফেলেন। মাত্র ২ রানে আর্শদীপের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন সাইফার্ট।
পরবর্তীতে ড্যারিল মিচেল ও ফিন অ্যালেন মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। পিচের সিম মুভমেন্ট সামলে মিচেল উইকেটে থিতু হন এবং শর্ট বলগুলোকে কাজে লাগিয়ে স্কয়ার বাউন্ডারিতে দারুণ কিছু শট খেলেন। ৫২ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে, ফিন অ্যালেন ২৫ বলে ৪০ রান করে আউট হন। শেষদিকে বেভন জেকবসের ২৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৭ রানের বিশাল পুঁজি পায় স্বাগতিকরা।
বোলিংয়ের শুরুতে ভুবনেশ্বর ও আরশদীপ দারুণ চাপ তৈরি করলেও কিউই মিডল অর্ডার সেই ধাক্কা সামলে বড় পুঁজি গড়ে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত অভিষেক ও সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবের কল্যাণে সেই লক্ষ্য অনায়াসেই টপকে যায় ভারত।
সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আগামী শুক্রবার অকল্যান্ডের বিখ্যাত ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে।




