চীনের আধুনিক ইতিহাসের রূপকার মাও সেতুংকে নিয়ে এক 'বিতর্কিত' মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। এ ঘটনায় চীনা স্পন্সরদের বয়কট ও লা লিগার সম্প্রচার বন্ধের হুমকির মুখে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের জনগণ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নেটিজেনদের তৈরি করা বিভিন্ন ইন্টারনেট মিম নিয়ে কথা বলছেন এমবাপে। নিজের মুখের ছবি চীনের এক সাবেক নেতার ছবিতে বসানো এক মিম সম্পর্কে তিনি রসিকতা করে বলেন, "আমার দেখা সবচেয়ে হাসির মিম হলো যেখানে আমার মুখ এক চীনা একনায়কের ছবিতে বসানো হয়েছিল।"
গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই ছবিটি ছিল চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের। চিনে মাও সেতুংকে নিয়ে যেকোনো ধরনের ঠাট্টা বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং সামাজিকভাবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এমবাপের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চীনে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। এর জের ধরে চীনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড- যেমন দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেংনিউ, ইস্টরক বেভারেজ এবং মিল্কগ্রাউন্ড এমবাপের সাথে তাদের সমস্ত চুক্তি বাতিল করার ঘোষণা দেয়। কোম্পানিগুলো জানায়, চীনা জনগণের আবেগে আঘাত দেয় এমন যেকোনো মন্তব্য বা আচরণের বিরুদ্ধে তাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি প্রযোজ্য।
পাশাপাশি, চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার সমস্ত ম্যাচ এবং সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন এমবাপে, তিনি বলেন, "আমার মন্তব্যটি অবিবেচকের মতো ছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি এটি চীন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চীনা সম্প্রদায়ের অনেক মানুষকে আঘাত করেছে। যাদের মনে আমার কথায় কষ্ট লেগেছে, তাদের সকলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।"
অন্যদিকে, স্প্যানিশ ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ লা লিগা এবং লিগ সভাপতি জাভিয়ার তেবাস পৃথক বিবৃতিতে চীনা সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তেবাস জানান, এমবাপের মন্তব্য ব্যক্তিগত পর্যায়ের এবং এর সাথে লা লিগার কোনো সম্পর্ক নেই। চীনের সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে লা লিগা বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে।




