খেলার মাঠে নিলাম মানেই কোটি টাকার ছড়াছড়ি। সম্প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি টুর্নামেন্টের নিলামে যেমন চমক দেখিয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম, বিক্রি হয়েছেন ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসান তামিমের দামও ছাড়িয়েছে দুই কোটি পয়েন্টের ঘর। এমন চোখ কপালে তোলার মতো অঙ্ক দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত বিশাল অঙ্কের অর্থ কি সত্যিই পকেটে পুরছেন এই তারকারা? চলুন, এই কোটি টাকার নিলামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব হিসাবটি একটু খতিয়ে দেখা যাক।
সাধারণত ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সুনির্দিষ্ট নগদ অর্থ নিয়ে বড়ে থাকেন এবং খেলোয়াড়দের সরাসরি বড় অংকের অর্থে কিনে নেন। তবে ভিন্নধর্মী এক ফরম্যাটে আয়োজিত এই ‘ডি থ্রি’ নিলামের পুরো কাঠামোটিই আলাদা। এখানে নগদ অর্থের কোনো লেনদেন নেই; বরং প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে দেওয়া হয়েছিল ১০ কোটি পয়েন্ট।
এই নির্দিষ্ট পয়েন্ট খরচ করেই দলগুলোকে গুছিয়ে নিতে হয়েছে তাদের ২২ সদস্যের স্কোয়াড। মূলত দলগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্য ও সমতা বজায় রাখতেই এই অভিনব পয়েন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছিল।
তাহলে এই পয়েন্টের বিপরীতে খেলোয়াড়দের পকেটে আসল কত টাকা ঢোকে? উত্তরটা বেশ সোজা, আলাদা করে এই পয়েন্টের বিপরীতে কোনো কোটি বা লাখ টাকা পাচ্ছেন না শরিফুল-তামিমরা। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে নির্দিষ্ট ম্যাচ ফি। এই হিসাব মেলালে দেখা যায়, টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী একটি দল ফাইনাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে।
এখানে প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ম্যাচ ফি ধার্য করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে শরিফুলের দল যদি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং তিনি যদি সবগুলো ম্যাচেই মাঠে নামেন, তবে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ পাবেন। এর বাইরে নিলামে ওঠা ওই কোটি কোটি পয়েন্টের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকার অঙ্কের কোনো সম্পর্কই নেই।




