স্পেনের ওভিয়েদো শহরে সম্প্রতি এক বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ পুরস্কার হাতে নেওয়ার পর ‘স্পোর্টস প্যালেস’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণ ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গল্প, সাফল্য-ব্যর্থতা আর ছোটবেলার স্মৃতি শেয়ার করতে গিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই খেলোয়াড়।
মেসি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অনেক বাবা-মা খুদে ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁর মতে, এতে সন্তানের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। তিনি বলেন, ‘অনেক অভিভাবক সন্তানের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করেন এবং বিশাল চাপের মধ্যে রাখেন। তারা হয়তো বোঝেন না যে সাহায্য করার বদলে আসলে ক্ষতি করছেন। সারাক্ষণ আরও ভালো করার তাগিদ আর চাপ বাচ্চাদের বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’
মাঠে বা মাঠের বাইরে; যেখানেই হোক, ছোটবেলায় খেলাকে উপভোগ করাটাই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন মেসি। খেলা যখন আনন্দের মাধ্যম হয়, তখন ভুলের ভয় বা ফলাফলের মানসিক চাপ থাকে না। ফলে পারফর্ম করাও সহজ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছোট থাকি, তখন যা করা উচিত তা উপভোগ করতে হবে। পছন্দের কাজ ভালোবাসলে এবং উপভোগ করলে নিজের অজান্তেই সেরাটা বেরিয়ে আসে। পুরো বিষয়টা তখন সহজ মনে হয়।’
নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে মেসি জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে ঢোকার সময় লাজুক স্বভাবের কারণে খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়েছিল। রোনালদিনহো, স্যামুয়েল ইতো, জাভি হার্নান্দেজ ও কার্লেস পুয়োলের মতো তারকাদের মাঝে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না।
সেই কঠিন সময়ে সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরামর্শই তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁরা বলেছিলেন, পরিবেশের কথা ভুলে ছোটবেলা থেকে যেভাবে খেলে এসেছ, ঠিক সেভাবেই কোনো চাপ ছাড়া খেলা উপভোগ করতে। সমালোচনার মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, জয়ের ক্ষুধা সাফল্যের চাবিকাঠি। তবে সেটি যেন খেলার আনন্দকে ঢেকে না ফেলে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ নয়। দুটি দল খেলে, জয়ী হয় একটি। পরাজয়ে অভ্যস্ত হওয়া উচিত নয়, কিন্তু হার যে খেলার অংশ তা মেনে নিয়ে শিক্ষা নিতে হবে। মূল বিষয় হলো লক্ষ্য অর্জনের জন্য শেষ পর্যন্ত সবটুকু চেষ্টা করেছ কি না। সবটুকু দিয়ে থাকলে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত।’




