ফিফার পরবর্তী মেয়াদে সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোকে আবারও পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের আগে এএফসির এই সমর্থন ইনফান্তিনোর টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে টিকে থাকার পথকে অনেকটাই মসৃণ করে দিল।
শুক্রবার জাপানের টোকিওতে আয়োজিত এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা উপস্থিত সব সদস্যের সামনে ইনফান্তিনোকে জড়িয়ে ধরে এই সমর্থনের কথা জানান।
৪৭টি সদস্য দেশের এই সংস্থায় সবার ভোট শতভাগ নিশ্চিত না হলেও, অধিকাংশ সদস্য দেশের সমর্থনই ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের জন্য বড় চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে। ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর, তবে এখন পর্যন্ত তার বিপরীতে কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।
সম্মেলনে ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে শেখ সালমান বলেন, "ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনার নতুন মেয়াদের লড়াইয়ে আমরা আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আপনি এশিয়ার বহু দেশ সফর করেছেন। মহাদেশের অনেক সদস্য দেশের সাথেই আমার কথা হয়েছে। আমি জানি আপনার মানসিকতা কেমন এবং ফুটবলের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত স্পষ্ট।"
সব সদস্য দেশ একমতে পৌঁছাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এএফসি প্রধান ইঙ্গিত দেন, সবাই হয়তো একমত নাও হতে পারে, তবে অধিকাংশ দেশই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে।
এএফসি এবং শেখ সালমানের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, মাত্র দুই মাস আগেই ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর সাথে সুর মিলিয়ে এএফসি দাবি করেছিল, ইনফান্তিনো ফুটবলের প্রতি "চরম বিশ্বাসভঙ্গ" করেছেন।
বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বিক্রির একটি বাতিল হওয়া ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনার জুরিখ বৈঠকে ‘ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফিফার ৩৭ সদস্যের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ইনফান্তিনো।
শুক্রবার নিজের বক্তব্যে অতীতের সেই মতভেদের কথা স্বীকার করলেও খুব বেশি গভীরে যাননি শেখ সালমান। তিনি বলেন, "জিয়ানি, আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই: হ্যাঁ, অতীতে আমাদের মধ্যে কিছু সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়টির সাথে এখনকার সমর্থনের সম্পর্ক টানা ঠিক হবে না। জুরিখে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আপনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আমাদের মধ্যে চমৎকার একটি পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।"
শেখ সালমান আরও বলেন, "অতীত নিশ্চিতভাবেই আমাদের ইতিহাসের অংশ। আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছি। এখন মূল বিষয় হলো, কীভাবে আমরা একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আশা করি এশিয়া বা গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।"
নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর্থিক অনুদান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ইনফান্তিনো। ফিফা মিডিয়া সেল থেকেও তার এই বিশ্বভ্রমণকে জোরকদমে প্রচার করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোর এই ব্যস্ততার প্রতি ইঙ্গিত করে রসিকতা করে শেখ সালমান বলেন, "এখানে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জানি আপনি বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় ছুটছেন। কীভাবে যে আপনি এত কিছু সামলান জানি না! প্রায় প্রতিটি দেশে উপস্থিত থাকার জন্য আপনার হয়তো একটি গিনেস রেকর্ড হয়ে যাবে।"
তিনি হালকা ছলে মন্তব্য করেন, ইনফান্তিনোর হয়তো কোনো "ক্লোন" (প্রতিরূপ) রয়েছে, যা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন। তবে বক্তব্যের শেষে যখন তিনি ইনফান্তিনোর প্রতি এশিয়ার একক সমর্থনের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তখন সবচেয়ে জোর করতালি পড়ে।
শেখ সালমান বলেন, "এক এশিয়ান পরিবার হিসেবে আমরা আপনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, জিয়ানি। আমি আজ এই বার্তাটি স্পষ্ট করে দিতে চাই।"




