আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে লিওনেল মেসি যখন অবশেষে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন, তখন অনেকের মনে হয়েছিল; সব হিসাব চুকিয়ে গেছে। কিন্তু বার্সেলোনার সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা দানি আলভেসের কথায়, সেই হিসাব এখনো পুরোপুরি মিটেনি। নিজ দেশের মাটিতে মেসিকে যেভাবে বছরের পর বছর প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচনার আগুনে পোড়ানো হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনো তাকে ব্যথিত করে।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনা সফরকালে রেডিও চ্যানেল কাদেনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলভেস স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “এখানে মেসিকে যেভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, সেভাবে করা হয়নি।” বিশ্বফুটবলে মেসির যে আকাশচুম্বী প্রভাব ও সম্মান, তার সঙ্গে নিজ দেশে প্রাপ্ত স্বীকৃতির মধ্যে বিশাল ফারাক ছিল বলেই তার অভিমত।
আলভেস বহু বছর বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে মেসির প্রভাব তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। কাতালান ক্লাবে তাদের জুটি ছিল অত্যন্ত সফল এবং অসংখ্য ট্রফি জয়ের সাক্ষী। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মেসি কতটা বিশেষ। অথচ আর্জেন্টিনায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।
সফরকালে আলভেস শুধু ফুটবল নিয়েই কথা বলেননি। উত্তর আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ধর্মীয়, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছেন। শালতা অঞ্চলের ‘ভিলা সোলেদাদ’ এলাকা এবং শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘লাপেন’-এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন তিনি।
ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি স্পেনে তার কারাভোগের অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে কথোপকথনে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৪ মাস বন্দি ছিলেন তিনি। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাতালুনিয়ার হাইকোর্ট সেই সাজা বাতিল করে তাকে খালাস দেন।
ধর্মীয় সভাগুলোতে নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে আলভেস বলেছেন, “মাঝে মাঝে আমরা মনে করি আমরা স্বাধীন, কিন্তু বাস্তবে স্বাধীনতার চেয়ে বেশি বন্দি। এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারাগার হলো পাপ।” তার মতে, কারাগার কেবল শারীরিক একটি জায়গা। পাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারলেই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব।




