বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ফাইনালে যেতে কতটা কঠিন পথ পার হতে হবে বাংলাদেশকে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফাইনালে যেতে কতটা কঠিন পথ পার হতে হবে বাংলাদেশকে?

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হারের পর ফাইনালের টিকিট পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সব আশার দুয়ার এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি; আজ (২১ অক্টোবর) আফগানিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা। শুধু আফগানদের হারানোই শেষ কথা নয়, নেট রান রেটের প্যাঁচালো হিসাব মিলিয়েই তবে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের।

প্রথম ম্যাচে ২৭২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ১৭২ রানে। ৯৯ রানের এই বড় ব্যবধানে হেরে টাইগারদের নেট রান রেট এক লাফে নেমে যায় -১.৯৮০-এ। অবশ্য পরের ম্যাচেই টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে যায়; ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে বসে। 

এর ফলে জিম্বাবুয়ের রান রেট কমে দাঁড়িয়েছে -০.৫৯০-এ। অন্যদিকে বিশাল জয়ে +৩.১৬০ রান রেট নিয়ে বেশ সুসংহত অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। এই মুহূর্তে তিন দলের সামনেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বা দুইয়ে থেকে ফাইনাল খেলার সুযোগ খোলা রয়েছে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার ঠিক আগের দিন দলীয় কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তরুণ তুর্কি তানজিদ হাসান তামিম। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দলের স্কিল বা দক্ষতায় কোনো গলদ নেই; আসল পার্থক্য গড়ে দেয় মানসিক প্রস্তুতি। বিদেশের মাটিতেও যদি দেশের মতো একই দৃঢ় মনোভাব নিয়ে খেলা যায়, তবে যেকোনো বড় লক্ষ্যই স্পর্শ করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন টাইগারদের এই ওপেনার।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তানজিদ বলেন, টেকনিক্যাল বা দক্ষতার ঘাটতি থাকলে ঘরের মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়ত। তাই দেশের বাইরেও মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকা এবং সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে দলগতভাবে পারফর্ম করাকেই সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন তিনি। মাঠের ভেতরের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে বড় স্কোর তাড়া করাও বেশ সহজ হয়ে যাবে বলে জানান তানজিদ।

বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করার সহজ কৌশল বাতলে তানজিদ আরও উল্লেখ করেন, একবারে ৩০০ বা ৩৫০ রানের কথা চিন্তা না করে খেলাটাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোলে ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয় না এবং পুরো দল সহজভাবে কাঙ্ক্ষিত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পুরো বাংলাদেশ দল এখন সেই মাইন্ডসেট নিয়েই প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে।

টুর্নামেন্টের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে শুধু একটি জয় বাংলাদেশকে স্বস্তি দিতে পারছে না। সমীকরণের মারপ্যাঁচে ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের অন্তত দুই নম্বর স্থানটি সুসংহত করাই এখন মূল লক্ষ্য। সে জন্য ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায়। তানজিদের কথায়, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থেকে দল হিসেবে ভালো করতে হবে। মাঠের ক্রিকেটে দলগত এই ঐক্য বজায় রাখতে পারলে নেট রানরেটের বড় ব্যবধান টপকানো অসম্ভব কিছু নয়।

ফলে ফাইনালে উঠতে আজ শুধু আফগানিস্তানকে হারালেই হবে না, নেট রানরেটও এমনভাবে বাড়িয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ যদি আগে ফিল্ডিং করে এবং আফগানদের ২০০ রানে আটকে রাখে, তবে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশকে ৪০.৩ ওভারের মধ্যেই সেই রান তাড়া করতে হবে। লক্ষ্য ২৫১ রান হলে ৪১.৩ ওভার, ২৮১ রান হলে ৪২ ওভার এবং আফগানিস্তান ৩০০ রান তুললে বাংলাদেশকে ৪২.২ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে হিসাবটি কিছুটা সহজ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালে পা রাখবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ৩০০ রান করলে আফগানদের ২৫৯ রানের আগেই গুটিয়ে দিতে বা আটকে রাখতে হবে। 

তবে বাংলাদেশ যদি ঐতিহাসিক কোনো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আফগানিস্তানকে ২১৮ রান বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে, তবে আফগানদের রান রেট সবার নিচে নেমে যাবে এবং ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর