খেলার মাঠ নাকি কোনো রোমাঞ্চকর হরর চলচ্চিত্রের দৃশ্যপট! ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেওয়ার আগে নিজেদের ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসকে তেমনই এক থ্রিলার মঞ্চে রূপান্তর করেছিলেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কট্টর সমর্থকেরা। গ্যালারিতে বিশালাকার ব্যানার ও হরর থিমের চোখধাঁধানো প্রদর্শনী যেমন একদিকে উন্মাদনা ছড়িয়েছে, তেমনি সংঘাতমূলক বার্তার কারণে ফুটবল অঙ্গনে জোর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে পার্ক দে প্রিন্সেসের 'অতেইল গ্যালারি' জুড়ে ভেসে ওঠে এক অভাবনীয় দৃশ্য। গ্যালারি মাতানো সমর্থক গোষ্ঠী 'ক কালেক্টিফ উলত্রা প্যারিস' একটি বিশালাকার ব্যানার উন্মোচন করে, যেখানে পপ কালচারের অন্যতম আইকনিক হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হ্যালোইন’-এর মূল চরিত্র মাইকেল মায়ার্সকে ফুটিয়ে তোলা হয়।
তবে চিরাচরিত পোশাকের বদলে মায়ার্সের গায়ে ছিল পিএসজির জার্সি ও বিশেষ অ্যাপ্রোন। তার রক্তমাখা করাত দিয়ে প্রতিপক্ষ বার্সেলোনার ব্যানার দ্বিখণ্ডিত করার দৃশ্যটি গ্যালারির রক্ত গরম করা আবহাওয়া এক নিমেষেই বাড়িয়ে দেয়। এমনকি করাত থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হওয়ার কৃত্রিম দৃশ্যটি গ্যালারিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পুরো আয়োজনটিতে কেবল ‘হ্যালোইন’ নয়, বরং বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দ্য টেক্সাস চেইনসো ম্যাসাকার’-এর ফরাসি সংস্করণ ‘ম্যাসাক্রে আ পারিজিয়েন’ লেখার মাধ্যমে স্পষ্ট একটি ভীতিকর বার্তা দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। স্টেডিয়ামের মাইকে ম্যাচ শুরুর আগেই এই বিশেষ প্রদর্শনী বা ‘কোরিওগ্রাফি’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সাধারণত ফ্রান্সে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষেই দর্শকেরা গ্যালারিতে এ ধরনের বৃহৎ আকারের ব্যানার বা টিফো প্রদর্শনের সুযোগ পান। ফলে পিএসজি পরিচালনা পর্ষদের নজর এড়িয়ে এটি প্রদর্শিত হয়নি বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।
তবে মাঠের এমন হিংসাত্মক দৃশ্য রূপায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রীড়া বোদ্ধা ও সমর্থকদের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বিষয়টিকে মাঠের স্বাভাবিক উত্তেজনা হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ এতে চরমপন্থা ও সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার উপাদান খুঁজে পাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্লাবের নিয়মকানুন ও ব্যানার ছাড়পত্রের দ্বৈত নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, বড় আকারের অফিশিয়াল টিফোগুলো ক্লাব তদারকি করলেও ছোট বা অনানুষ্ঠানিক ব্যানারগুলোর ক্ষেত্রে এমন কঠোর যাচাই-বাছাই থাকে না। যার প্রমাণ মিলছিল এর ঠিক ১০ দিন আগেই। লে মানসের বিরুদ্ধে অন্য একটি ম্যাচে ‘তোমাদের মিলিশিয়া দমন করে, আমাদের তরুণেরা প্রতিরোধ করে’ লেখা একটি প্রতিবাদী ব্যানার উঁচিয়ে ধরেছিলেন সমর্থকেরা, যা তৎকালীন ফরাসি সামাজিক আন্দোলনের সংহতি প্রকাশ করেছিল।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সরিয়ে নিলে ক্ষুব্ধ উলত্রা সমর্থকেরা সাময়িকভাবে গ্যালারি ত্যাগ করে প্রতিবাদ জানান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বার্সেলোনা ম্যাচের এই রক্ত হিম করা ব্যানার প্রদর্শন পিএসজির সমর্থক সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।




