সবুজ গালিচায় একের পর এক গতি আর গোলের ঝড়ে ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে যাচ্ছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। ক্লাব থেকে জাতীয় দল, সবখানেই তার পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। অসাধারণ এই ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘অনজে ডি'অর’ জিতে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ফরাসি সাময়িকী ‘অনজে মোন্দিয়াল’-এর এই ঐতিহ্যবাহী পুরস্কারটি ৫০তম বর্ষে পা দেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজের করে নিলেন তিনি।
২০ লাখেরও বেশি ফুটবলপ্রেমীর ভোটে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। মোট ভোটের ৪৮.২ শতাংশ সংগ্রহ করে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বহু যোজন এগিয়ে থেকে বিজয়ী হন তিনি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা জোয়াও নেভেস পেয়েছেন মাত্র ১১.৯ শতাংশ ভোট। এছাড়া ১০.৮ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন খিচা কাভারেস্কাইয়া, ৯.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে লামিন ইয়ামাল এবং ৭.৫ শতাংশ ভোট ঝুলিতে পুরে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছেন ওসমানে দেম্বেলে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অলৌকিক পারফরম্যান্সের স্বাক্ষর রাখেন এমবাপে। স্পেনিশ লা লিগায় ২৫টি গোল করে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব অর্জন করেন তিনি। কেবল ঘরোয়া লিগেই নয়, ইউরোপসেরা হওয়ার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগেও ছড়ান সমান দ্যুতি, যেখানে তার পা থেকে আসে আরও ১৫টি গোল। ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে এক মৌসুমে গোলসংখ্যা ৪০-এর ঘর ছাড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
বিশ্বমঞ্চেও এমবাপের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ দুমড়ে-মুচড়ে তিনি করেন ১০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসকে নতুন করে লেখার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বমঞ্চে সর্বমোট ২২টি গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আসীন হন তিনি। এর মাধ্যমে লিওনেল মেসির ২১ গোল এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে চূড়ায় পৌঁছে যান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ক্যারিয়ারের প্রথম ‘অনজে ডি'অর’ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নাম লেখালেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তিদের সারিতে। এর আগে এই মর্যাদাবান ট্রফিটি ঘরে তুলেছেন মিশেল প্লাতিনি, জঁ-পিয়েরে প্যাপাঁ, এরিক কানতোনা, জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরি, অঁতোয়ান গ্রিজমান, করিম বেনজেমা এবং ওসমানে দেম্বেলের মতো ফরাসি দিকপালরা। একই সঙ্গে দিয়োগো মেরাডোনা, রোনালদো ও লিওনেল মেসির রেখে যাওয়া পদচিহ্নে নিজের নাম খোদাই করলেন এই রিয়াল তারকা।




