ঝড়ো হাওয়ায় কেবল পতাকাই ওড়ে না, মাঝে মাঝে ভেতরের খাঁ খাঁ করা শূন্যতাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লাল-সবুজের ওয়ানডে ক্রিকেটের বর্তমান চিত্রটি যেন সেই নির্জন শূন্যতারই এক মর্মান্তিক দৃশ্যপট। মাঠের পারফরম্যান্সে একের পর এক নামতে থাকা ধস আর পরিকল্পনার ঘাটতি দেখে চোখের কোণে ক্ষোভ ও আশঙ্কার জল জমেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় যত এগিয়ে আসছে, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে; তবে কি আফ্রিকান বাউন্স আর গতির সামনে নতুন কোনো বিপর্যয়ের রূপকথা লেখা হতে চলেছে?
পরপর ভুল, একই দুর্বলতা আর তা থেকে শিক্ষা না নেওয়ার অভ্যাসই আজ সমর্থকদের দীর্ঘশ্বাসকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলেছে। যে বাংলাদেশ ওয়ানডের চেনা আঙিনায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহের কারণ ছিল, আজ তারা ধুঁকছে নিজেদের ছায়া হয়ে। পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালেই এই করুণ দশা স্পষ্ট ধরা পড়ে।

২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে শেষ ৩৬টি ওয়ানডে ম্যাচের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২১টিতেই পরাজয় বরন করতে হয়েছে বাংলাদেশকে, আর জয়ের মুখ দেখেছে মাত্র ১৪টিতে (একটি টাই হলেও ভাগ্য সহায় হয়নি)। ৯ ম্যাচে মাত্র ২ জয় নিয়ে শেষ হওয়া ২০২৩ সালের সেই বিশ্বকাপ এবং নেদারল্যান্ডসের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয়ের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।
এরপর বিদেশে টানা সিরিজ হার, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সুযোগ হারিয়ে ফেলা কিংবা আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দাগ। সবকিছুই সংকেত দিচ্ছে যে সমস্যাটা সাময়িক নয়, বরং শিকড় অনেক গভীরে।
ঘরের চেনা উইকেটে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলকে হারিয়ে উদযাপনের আতশবাজি জ্বালালেও দেশের বাইরে গেলেই সেই আলো কীভাবে যেন নিমেষেই নিভে যায়। জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হাতছাড়া কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়া প্রমাণ করে যে, ঘরের মাঠের সাফল্য বিদেশের চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পুরোপুরি ব্যর্থ।

দলীয় এই ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক এখন ব্যাটিং ইউনিট। বোলাররা কন্ডিশন সামলে চমৎকারভাবে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই মেহনত নিমেষেই ভেসে যাচ্ছে। আধুনিক ৫০ ওভারের ক্রিকেটে যেখানে ৩০০ রান অত্যন্ত সাধারণ এক পুঁজি, সেখানে বাংলাদেশের জন্য ২০০ পেরোনোই যেন এক বিশাল পর্বতজয়ের সমান।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে গতি ও বাউন্সের যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তাতে এই ভঙ্গুর ব্যাটিং সারি নিয়ে লড়তে গেলে প্রতিপক্ষকে আলাদা করে কোনো ছকই কষতে হবে না। তবে দ্রুত নিজেদের শুধরে না নিলে এবং খেলার মানসিকতায় পরিবর্তন না আনলে, ২০২৭ সালের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বিষাদময় এক অধ্যায় রচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এসটি




