সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক রকেট ও ড্রোন হামলার পর আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান কাপ স্থগিত বা অন্তত এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আগামী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও আল খোবার শহরে মহাদেশীয় এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি হওয়ায় চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে স্বাগতিক দেশটি।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খালিফা জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনই তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আমরা আগামী নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুতই ভালো বা খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে, তাই আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি সিদ্ধান্ত নিতেই হয় তবে আমরা তা নেব—প্রয়োজনে টুর্নামেন্টটি এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালেও নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে সবকিছু পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই এগোচ্ছে।"
সম্প্রতি রিয়াদ অভিমুখে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর নিশ্চিত করে সৌদি সামরিক জোট। এই ঘটনার প্রভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল-নাসরের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। এছাড়া চলতি সপ্তাহে সৌদি ঘরোয়া লিগের তিনটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে এবং বহুল আলোচিত 'সিক্স কিংস স্ল্যাম' টেনিস প্রদর্শনী টুর্নামেন্টটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দেশের ফুটবলারদের সুরক্ষা নিয়ে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থা।
অস্ট্রেলিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (কেপিএফএ) সভাপতি লি গুন-হো এক বিবৃতিতে বলেন, "খেলোয়াড় ও ফুটবলপ্রেমীদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে কোনো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বেশি হতে পারে না। সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আয়োজক দেশ পরিবর্তনসহ সব বিকল্প খোলা রাখা উচিত।"
এএফসি সভাপতি শেখ সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে আগামী নভেম্বরের শেষেই জানা যাবে এশিয়ান কাপ নির্ধারিত সময়েই সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে নাকি ২০২৮ সালে পিছিয়ে যাবে।




