আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে সেদিকউল্লাহ অটল ও কায়েস আহমেদের অসাধারণ প্রতিরোধে ঐতিহাসিক এক ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। জয় থেকে মাত্র ২ উইকেট দূরে থাকা সত্ত্বেও অলআউট করতে না পারায় আফগানদের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের।
৪৭৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনে ৯০ ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ ছিল আফগানিস্তানের সামনে। ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করা আফগানদের হয়ে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ওপেনার সেদিকউল্লাহ অটল। ৩৩২ বলের এক মহাকাব্যিক ইনিংসে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১১১) তুলে নেন। তাঁর দৃঢ়তায় ভর করেই ম্যাচকে শেষ সেশন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুতেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী মাঠ ছাড়লে ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অটলের সঙ্গে ইকরাম আলীখিল লড়াই চালিয়ে যান। মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদতের বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের অবিশ্বাস্য ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ৩৩ রান করা আলিখিল। এই ক্যাচ ও ম্যাচে সেঞ্চুরি-ফিফটির মধ্য দিয়ে এক টেস্টে সেঞ্চুরি, ফিফটি ও ৯ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়েন লিটন দাস।
চা-বিরতির আগে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেও শাহিদী (৩৬) ও ইসমাত আলম (৪) দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। ফলে ৬ উইকেটে ২৬৫ রান নিয়ে শেষ সেশনে প্রবেশ করে আফগানিস্তান।
ম্যাচে নিজের ৫৮.৪ ওভার বোলিং করার পর অবশেষে বাংলাদেশ দলকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সেঞ্চুরিয়ান অটলকে আউট করে বাংলাদেশকে জয়ের সুবাস এনে দেন তিনি। তখন জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট।
তবে অটল ফেরার পর বাংলাদেশি বোলারদের ওপর হতাশাবর্ধক এক ছায়া হয়ে দাঁড়ায় আফগানিস্তানের টেল-এন্ডাররা। ইয়ামিন আহমাদজাই ৮৫ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ১৯ রান করেন এবং তাঁকে সঙ্গ দিয়ে ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন কায়েস আহমেদ। অষ্টম উইকেটে এই দুজনের ৪৫ রানের মহামূল্যবান জুটি ম্যাচটিকে বাংলাদেশের হাত থেকে পুরোপুরি ছিনিয়ে নিয়ে ড্রয়ের দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইয়ামিন বিদায় নিলেও বাকি ওভারগুলো নিরাপদে কাটিয়ে দেন কায়েস আহমেদ। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে অভাবনীয় এক ড্র হাসিল করে নেয় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে ইবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ একাধিক উইকেট শিকার করলেও শেষ বিকেলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন স্পিনাররা।




