বিশ্ব ফুটবলে সেরাদের সেরা কে, এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। কেউ বলেন সর্বকালের সেরা পেলে, কারো কাছে ম্যারাডোনাই এর যোগ্য দাবিদার, আবার কারো কাছে সবার আগে লিওনেল মেসি। সেরাদের নিয়ে এই বিতর্কে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোমারিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেও ব্রাজিলের কালজয়ী তারকা পেলেকে মেসির চেয়ে এগিয়ে রাখছেন তিনি।
ব্রাজিলীয় সংবাদপত্র ও দিয়া-তে প্রকাশিত এক কলামে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার রোমারিও লেখেন, "মেসি কি পেলের চেয়েও বড়? সে তো ফুটবলের এক দৈত্য, কিন্তু পেলের সঙ্গে তাঁর কোনো তুলনা হয় না। পেলের মতো টেকনিক, গতি ও লক্ষ্যভেদের দারুণ সমন্বয় আর দ্বিতীয়টি আসবে না। মেসির প্রতি আমার অগাধ সম্মান রয়েছে, সে সর্বকালের অন্যতম সেরা; কিন্তু আজ থেকে ৫০ বছর আগেই পেলে যুগের চেয়ে এগিয়ে থাকা ফুটবল খেলতেন!"
ব্রাজিলের হয়ে ৭০টির বেশি ম্যাচে ৫৫ গোল করা রোমারিও মেসির সঙ্গে নিজের আন্তর্জাতিক বিদায়ের একটি আবেগঘন স্মৃতিও শেয়ার করেন। ২০০৫ সালে গুয়াতেমালার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক গোলটি করার পর জার্সির ভেতরে থাকা টি-শার্ট উঁচিয়ে ১ মাস বয়সী ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত কন্যা আইভিকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান এই তারকার মতে, রিভার প্লেটের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৯০ হাজার দর্শকের সামনে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে মেসির বিদায়ি ম্যাচটি তাঁকে নিজের সেই স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
বেনিনের বিপক্ষে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি পেনাল্টি থেকে করে মেসির জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসি স্মরণ করেন তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে (যিনি সম্প্রতি ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছেন)। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২০১৭ সালের বিখ্যাত ক্লাসিকো উদযাপনের আদলে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, "সব বলা শেষ, আর এখন সবই শেষ। হৃদয় থেকে আসা একমাত্র শব্দ হলো: ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা।"
২০২২ বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০০৮ অলিম্পিক সোনাজয়ী মেসি ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল নিয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হিসেবে বুট জোড়া তুলে রাখলেন। তবে রোমারিওর মন্তব্য প্রমাণ করে, ট্রফি ও পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, পেলে বনাম মেসির এই সেরা হওয়ার দ্বৈরথ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবলপ্রেমীদের ভাগ করেই রাখবে।




