সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বোলারদের তোপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চালকের আসনে অজিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বোলারদের তোপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চালকের আসনে অজিরা

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলটি নিয়ে গত এক বছর ধরে সমালোচনা কম হয়নি- দলের ক্রিকেটারদের বয়স, গভীরতা এবং ঠাসা সূচিতে টিকে থাকার সামর্থ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল অজস্র প্রশ্ন। তবে ডারবানের কিংসমিডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে অভিজ্ঞতার সেই পুরনো মূলমন্ত্রটিই আবারও মনে করিয়ে দিলেন অজি তারকারা। ডারবানের মাঠে প্রমাণ হলো, সমস্যা ক্রিকেটারদের বয়সে নয়, বরং তাঁদের কতটা নিয়মিত ও ফিট অবস্থায় মাঠে পাওয়া যাচ্ছে, তাতেই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।

প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন- অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহাসিক বোলিং চতুষ্টয় প্রথম একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন প্রায় নয় বছর আগে। ডারবানে আবারও নিজেদের দিনে তারা ঠিক কতটা ভয়ংকর হতে পারেন, তার প্রমাণ মিলেছে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে ১৩৯ রানের মূল্যবান লিড নিয়েছে ক্যাঙ্গারুরা। ম্যাচের এখনও দুই দিন বাকি থাকায় চালকের আসনেই রয়েছে সফরকারীরা।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৩৯০ রানের জবাবে ১ উইকেটে ৮২ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আইডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহামের ব্যাটে ভালো গতিতেই এগোচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু নতুন বলের আক্রমণ ছেড়ে কৌশল বদলান অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনি নাথান লায়নকে আক্রমণে আনেন এবং পেসারদের লেংথ খানিকটা ছোট করে বল করার নির্দেশ দেন, যাতে ব্যাটাররা অনায়াসে ড্রাইভ খেলতে না পারেন।

প্রথম ২০ ওভারে যেখানে ৩৪ শতাংশ বল ফুল-লেংথে করেছিলেন পেসাররা, সেখানে পরবর্তী ২০ থেকে ৬০ ওভারের মধ্যে ছয়ের মিটারের চেয়ে বেশি ফুল-লেংথে মাত্র ১৯টি বল করেন স্টার্ক, হ্যাজলউড ও কামিন্স। এই সুচিন্তিত লেংথের পরিবর্তনই খেলা ঘুরিয়ে দেয়। ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মার্করাম ও বেডিংহাম। কামিন্স ৩টি এবং স্টার্ক, হ্যাজলউড ও লায়ন ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

এই চার বোলার যখনই একসঙ্গে একাদশে খেলেছেন, টেস্টে তাদের ঝুলিতে এসেছে অবিশ্বাস্য ৬০৭টি উইকেট। যা ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, বেন স্টোকস ও মঈন আলির ৩১ টেস্টে সংগৃহীত ৪১৫ উইকেটের রেকর্ডকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

বোলিংয়ের পাশাপাশি স্লিপে অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনী দেখান ৩৬ বছর বয়সী স্টিভ স্মিথ। ইনিংসে ৩টি দুর্দান্ত ক্যাচ লুপে নেন তিনি, যার মধ্যে নাথান লায়নের বলে কাইল ভেরেইনাকে বিদায় জানাতে এক হাতে নেওয়া অবিশ্বাস্য ক্যাচটি অন্যতম। নন-উইকেটকিপার হিসেবে জো রুটকে (২২০) পেছনে ফেলে টেস্ট ইতিহাসে ২০২৩টি ক্যাচ নিয়ে এখন অনন্য উচ্চতায় স্মিথ। এছাড়া দলের প্রথম ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল ম্যাট রেনশর লড়াকু ১৯০ রানের অসাধারণ ইনিংসটি।

একদিকে যেমন বড় সংগ্রহ ও দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয়, অন্যদিকে দলের ওপর এই বয়ো জ্যেষ্ঠ তারকাদের একক নির্ভরতা কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণও বটে। স্টার্কের বয়স এখন ৩৭ এবং নাথান লায়নের ৩৯। সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে পেস আক্রমণ সামলাতে বেশ হিমশিম খেয়েছে দল। গত অ্যাশেজে যেমন পুরো ৫টি টেস্টই মিস করেছিলেন হ্যাজলউড, আর কামিন্স মাঠের বাইরে ছিলেন ৪টিতে।

সামনে নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন টেস্ট সিরিজ আসছে। বয়সের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের চাপ সামলে এই চার পেস-স্পিন স্তম্ভকে শতভাগ ফিট রাখা।

দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে ১৭২ রানে এগিয়ে রয়েছে। ডারবান টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি প্যাট কামিন্সদের হাতে থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে বর্ষীয়ানদের অভিজ্ঞতা আর তাঁদের চোট সামলানোর ভারসাম্যই ঠিক করে দেবে অজিদের ভবিষ্যৎ সাফল্য।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর