আর্থিক বিষয়ক ১০০টিরও বেশি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। রোববার প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের মুখোমুখি হতে অ্যানফিল্ডে আতিথ্য নেবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি।
একটি স্বাধীন কমিশন সম্প্রতি তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সিটি কৃত্রিমভাবে রাজস্ব বাড়িয়ে এবং খরচ কমিয়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও (১.২ বিলিয়ন ডলার) বেশি অর্থ জালিয়াতি করেছে। এই সময়ে সিটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগসহ একাধিক ট্রফি জিতেছিল, যেখানে লিভারপুলকে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল।
কমিশনের এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আপিল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের নতুন ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেস্কা অবশ্য মাঠের বাইরের বিতর্ক ভুলে খেলোয়াড়দের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খেলোয়াড় ও আমার পুরো মনোযোগ সেখানেই। অন্য বিষয়গুলো আমাদের হাতে নেই।"
আপিল ও সম্ভাব্য শাস্তির অপেক্ষায় এখন পুরো প্রিমিয়ার লিগ। শাস্তির মাত্রা ঠিক কতটা কঠোর হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, পয়েন্ট কর্তন, লিগ থেকে বহিষ্কার, কিংবা এই সময়ে জেতা লিগ শিরোপাগুলোও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। লিভারপুলভিত্তিক জনপ্রিয় পডকাস্ট 'দ্য অ্যানফিল্ড র্যাপ'-এর জন গিবনস বলেন, "তাদের খেতাব কেড়ে নেওয়া উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে ভুল বার্তা যাবে। আমার মনে হয় না এই ঘটনার পর তাদের লিগে থাকা উচিত।"
লিভারপুল কোচ অ্যান্ডোনি ইরাওলা মন্তব্য করেছেন, "সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো এই অনিশ্চয়তা। কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না।"
ইনজুরি সমস্যার কারণে এই ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সান্ডার আইজাক এবং কোডি গাকপোকে পাচ্ছে না লিভারপুল। তবে নিজেদের ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে চেপে ধরতে প্রস্তুত অলরেড সমর্থকরা। সিটির অতীত রেকর্ডও অ্যানফিল্ডে খুব একটা ভালো নয়; গত মৌসুমের ২-১ ব্যবধানের জয়টি ছিল ২০০৩ সালের পর দর্শকদের উপস্থিতিতে তাদের প্রথম সাফল্য।
মৌসুমের শুরু থেকে টানা সাত জয়ে উড়তে থাকা এনজো মারেস্কার দল অ্যানফিল্ডের প্রতিকূল পরিবেশ সামলে জয়ধারা বজায় রাখতে পারে নাকি মাঠের বাইরের আইনি ঝামেলায় ব্যাকফুটে চলে যায়, তা দেখতেই মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।




