মরুর বুকে চমৎকার শুরুর পর হুট করেই পথ হারাল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ার অবারিত সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত পুঁজিতে পৌঁছাতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ৩৫০ রান ছোঁয়ার আগেই অলআউট হয়ে গেছে তারা। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর মিডল অর্ডারের আকস্মিক ধসে ভর করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াই থামে ৩৪৬ রানে।
অথচ ম্যাচের গল্পটা হতে পারত একবারে অন্যরকম। ওপেনিং জুটিতে তরুণ তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম বাংলাদেশকে দারুণ এক সূচনা এনে দিয়েছিলেন। আফগান আক্রমণের বিরুদ্ধে দুই ওপেনার মিলে তোলেন বোর্ডে ১২৪ রান। বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক; মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের এক দর্শনীয় ইনিংস খেলে তিনি মাঠ ছাড়েন। অপর প্রান্তে সাদমান কিছুটা হিসেবি খেলে তুলে নেন ৬৭ রান। তিন নম্বরে আসা অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও খেলেন ৩৯ রানের কার্যকর এক ইনিংস।
এক পর্যায়ে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে ফেলেছিল সফরকারীরা। কিন্তু ২০০ রানের কোটা পার করার পর থেকেই দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে হঠাৎ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লাল-সবুজের মিডল অর্ডার। মুশফিকুর রহিম খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন, আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত থেমে যান ব্যক্তিগত ২৯ রানে।
মিডল অর্ডারের চরম ব্যর্থতার মাঝেও লিটন দাসের লড়াই বাংলাদেশকে ৩০০ পার করতে সাহায্য করে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। আর মেহেদী হাসান মিরাজ স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ২৪ রান। অর্থাৎ শেষ ১২৫ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে মূল্যবান ৮টি উইকেট!
প্রথম দিনে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলে খেলা শেষ করার পর, দ্বিতীয় দিনে বাকি দুই উইকেট নিয়ে খুব বেশি পথ এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। সকালে তাইজুল ইসলাম ৯ রান করে মোহাম্মদ সালিমের বাউন্সারে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে শেষ ভরসা হয়ে থাকেন নাঈম হাসান। তিনি শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে অপরাজিত থাকলেও, ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রানে গুটায় বাংলাদেশের ইনিংস।
আফগানদের পক্ষে বল হাতে মূল ক্ষতিটা করেন মোহাম্মদ সালিম সাফি। ৮২ রান খরচায় তিনি শিকার করেন সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট। এছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি, ইসমত আলম ২টি এবং লেগ স্পিনার কাইস আহমেদ তুলে নেন ১টি উইকেট।




