পায়ে বল পেলেই তিনি সবুজ গালিচায় ক্যানভাস আঁকেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ নিমিষেই চুরমার করে দেন। তবে লিওনেল মেসির এই জাদু কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই। ফুটবলের সীমানা পেরিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। খেলা চলাকালীনই বিলিয়নিয়ার হওয়া বিশ্বের হাতে গোনা চার ক্রীড়াবিদের একজন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ১.১ বিলিয়ন ডলারের নিট সম্পদের মূল ভিত্তি শুধুই মাঠের পারিশ্রমিক নয়; এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।
আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের তথ্যমতে, ক্যারিয়ারে মেসির সর্বমোট আয় প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এর একটি বড় অংশ, প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। তবে বাকি ৬০০ মিলিয়ন ডলারের উৎস মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড, যেমন বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ। অর্থাৎ তাঁর মোট আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছে খেলার বাইরে থেকে।
অবশ্য সম্পদ মূল্যায়নকারী আরেক প্রতিষ্ঠান 'সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থ'-এর মতে, মেসির মোট নিট সম্পদ ১ বিলিয়ন ডলার। সংখ্যায় সামান্য তফাত থাকলেও দুটি সূত্রই নিশ্চিত করে যে, মাঠের আয়কে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে লেব্রন জেমস, টাইগার উডস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে নিজের নাম সগৌরবে বসিয়েছেন মেসি।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদের তালিকায় মেসি রয়েছেন তিন নম্বরে, যেখানে কেবল বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকেই বছরে তাঁর আয় প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার। গত ১২ মাসে তাঁর মোট আনুমানিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৪০ মিলিয়ন ডলারে। এই বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের মূল স্তম্ভ স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস, যার সঙ্গে ২০১৭ সালে তিনি 'আজীবন' চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে। প্রচারবিমুখ এবং কম কথা বলা সত্ত্বেও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে মেসির শান্ত ও স্থিতিশীল ভাবমূর্তি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির দক্ষ পরিচালনায় তৈরি নির্ভরযোগ্য একটি কাঠামোর মাধ্যমে এসব বাণিজ্যিক চুক্তি পরিচালিত হয়ে আসছে।
ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেসি বেছে নিয়েছেন আবাসন ও আতিথেয়তা খাত। ২০২৪ সালে তিনি চালু করেন 'এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি' নামের একটি তালিকাভুক্ত রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, যা বর্তমানে স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, এই ট্রাস্টের বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার (সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের মতে এটি ২৩২ মিলিয়ন ডলার)। এই কোম্পানির অধীনে রয়েছে 'মিম হোটেলস' চেইনের অধীনে থাকা স্পেন ও অ্যান্ডোরার ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বাণিজ্যিক সম্পত্তি।
এছাড়া ব্যক্তিগত আবাসনেও তাঁর বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে; যার মধ্যে বার্সেলোনার কাস্তেলদেফেলসের বাড়ি (২ মিলিয়ন ডলার), সানি আইলস বিচের কনডোমিনিয়াম (৭.৩ মিলিয়ন ডলার) এবং ফোর্ট লডারডেলের সমুদ্রতীরবর্তী রাজপ্রাসাদটি (১০.৭৫ মিলিয়ন ডলার) অন্যতম।




