বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সম্মান জানাতে ১০ মিনিটে থামল ম্যাচ, মেসির বাকি আর ৪৫ মিনিট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

সম্মান জানাতে ১০ মিনিটে থামল ম্যাচ, মেসির বাকি আর ৪৫ মিনিট

বুয়েনোস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম আজ রূপ নিয়েছিল স্মৃতির এক আবেগঘন ক্যানভাসে। আকাশি-সাদা জার্সিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষবারের মতো মাঠে নামার রাত ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ ও বিদায়াতুর আবহ। তবে রূপকথার এই বিদায়ী মঞ্চে উদযাপনের জন্য যার সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা ছিল, সেই গোলের দেখাই মেলেনি প্রথমার্ধে। প্রতিপক্ষ বেনিনের বিপক্ষে খেলার লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখলেও প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যেতে হয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ফুটবল মাঠে গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা হলুদ কার্ডের হিসেব-নিকাশই সাধারণত জয়ের নায়ক আর খলনায়ক ঠিক করে। কিন্তু কিছু রাত আসে, যখন স্কোরবোর্ডের ওই শীতল সংখ্যাগুলো এক লহমায় অর্থহীন হয়ে পড়ে। বুয়েনোস আইরেসের সবুজ ঘাসে আজ ঠিক তেমনই এক রূপকথা পূর্ণতা পেল। মাঠের সব পরিসংখ্যানকে একপাশে ঠেলে বিশ্ব ফুটবলের মূল আলোচনা এখন কেবল একটি নামকে ঘিরেই লিওনেল মেসি। ফুটবলের ক্যানভাসে নিজের শেষ তুলির আঁচড় কেটে চিরদিনের জন্য বুটজোড়া তুলে রাখার এই ক্ষণটিই এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ।

চিলিয়ান রেফারি ফের্নান্দো বেহার দিয়াসের বাঁশিতে ম্যাচ গড়ালে শুরু থেকেই সফরকারীদের ওপর চেপে বসে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই লিওনেল মেসি ও এনসো ফার্নান্দেসের জোড়া জোরালো শট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু। অবশ্য এর আগেই বেনিন ফরোয়ার্ড তোসিন আইয়েগুনের একটি প্রচেষ্টা দারুণ প্রতিরোধে নস্যাৎ করে দেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এরপর খেলার ১০ মিনিটে ঘটে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত; ১০ নম্বর জার্সিধারীকে সম্মান জানাতে কিছুক্ষণের জন্য খেলা থামানো হয় এবং পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি ও ভালোবাসায় মেসিকে অভিবাদন জানায়।

প্রথম আধঘণ্টায় আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন স্বয়ং মেসিই। ২৩ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের মাপা ক্রসে সামান্যর জন্য বল স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। এর দুই মিনিট পর ২৫ মিনিটে মেসির নেওয়া আরও একটি শট রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার। ৩২ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর সুযোগটি পায় স্বাগতিকরা; লাউতারো মার্তিনেজের চমৎকার পাস থেকে মেসির নেওয়া ভলিটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

একতরফা চাপের মধ্যেও পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছে সফরকারী বেনিনও। ১৮ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতানের শট অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে সেই ওলাইতানের আরেকটি বিপজ্জনক আক্রমণ ভেস্তে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বিরতির বাঁশি বাজার মুহূর্তে ৪৪ মিনিটে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। ফলে পুরো প্রথমার্ধে মাঠের দখল ও একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ০-০ সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আলবিসেলেস্তেদের।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর