প্রতিদিনের মতোই সূর্য উঠবে, বিকেল গড়াবে সায়াহ্নে। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ায় আজ যে সূর্য অস্তমিত হতে যাচ্ছে, তার দীপ্তি আর কোনো দিন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পোশাকে দেখা যাবে না। পুরো বিশ্ব এখন এক পরম মুহূর্তের অপেক্ষায়, যার কেন্দ্রবিন্দু বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল। বিশ্বজয়ের অধ্যায় শেষ করে লিওনেল মেসি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবেন, তখন প্রতিটি মুহূর্ত থমকে দাঁড়াবে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের ক্যানভাসে যে রঙের ছোঁয়া তিনি দিয়ে গেছেন, জাতীয় দলের পোশাকে তার শেষ আঁচড় পড়তে যাচ্ছে আজ।
বিদায়ের ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের চেনা আঙিনায় শেষবারের মতো পা রেখেছিলেন মেসি। নিজের নামে নামাঙ্কিত ‘এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে’ জাতীয় দলের হয়ে শেষ অনুশীলন পর্বটি সম্পন্ন করেছেন তিনি। শেষ অনুশীলনে সতীর্থদের সাথে হাসি-ঠাট্টায় মেতে থাকলেও মনের গভীরে বিদায়ের সুর যে বাজছিল, তা আড়াল করা যায়নি। অনুশীলন শেষে নৈশভোজ সেরে নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন এই ফুটবল জাদুকর। আবেগঘন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত। আমি জানি, এগুলো খুব মিস করব।’
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি ফ্রেম ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ছবিটিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া, কোচিং স্টাফের সদস্য, সতীর্থ ফুটবলারদের পাশাপাশি এএফএর সর্বস্তরের কর্মচারীরাও এক ফ্রেমে বন্দি হয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন বহু ছবি তিনি তুলেছেন, তবে আজকের দিনটির তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর্জেন্টিনার হয়ে অনুশীলনের এই চেনা আবহ যে আর কখনো ফিরে আসবে না, সেই সত্যই এই ছবিটিকে এক অনন্য স্মারক বানিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি হতে যাচ্ছে মেসির ২০৮তম ও বিদায়ী ম্যাচ। দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ১২৫টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৬৮টি গোল। পরিসংখ্যানের এই পাহাড় ছাপিয়ে যিনি বিশ্বফুটবলকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন, আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি ইতি টানছেন নিজের মহাকাব্যিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর পাঁচটায় বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা ও বেনিনের মধ্যকার এই বহুপ্রতীক্ষিত ম্যাচটি। ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন কেবল এক মহানায়কের শেষ বিদায়ের সাক্ষী হতে। ফুটবলের আকাশে আর কোনো দিন আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর পোশাকে এই নক্ষত্র আলো ছড়াবেন না, তবে মনুমেন্তালের ঘাসে রেখে যাওয়া তাঁর শেষ পায়ের ছাপ রয়ে যাবে ফুটবলের চিরন্তন ইতিহাসে।




