কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়াম আজ রাতে হয়ে উঠবে ফুটবলের এক অনন্য মঞ্চ। যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ভারতের। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে এই প্রীতি ম্যাচ। ক্রিকেট যেখানে সংস্কৃতির অংশ, সেখানে ফুটবলের জায়গা কতটা; এই বাস্তবতা জেনেও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্বাগতিক দলের প্রতি তাঁদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন, “ক্রিকেট ওদের সংস্কৃতির অংশ। ফুটবল হয়তো এখানকার প্রধান খেলা নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওরা ফুটবল ভালোবাসে না। আমরা এখানে আসতে পেরে এবং যারা খেলাটি দেখার সুযোগ পাবেন, তাঁদের সামনে আমাদের ফুটবলের মান তুলে ধরতে পেরে আনন্দিত। আশা করছি রাতটা দুর্দান্ত হবে।”
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ম্যাচটি উপভোগ্য হোক; এটাই তাঁর প্রত্যাশা। নিজেদের সেরাটা দেখানোর সুযোগ পেয়ে দল খুশি। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, “ভারতের ফুটবলের মানের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। সম্প্রতি পানামার বিপক্ষে তারা ১-১ গোলে দারুণ একটি ড্র করেছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে।”
৬৭ বছর বয়সী এই কোচ মাঠে নিজের শান্ত মেজাজের কথাও তুলে ধরেন। ধৈর্য ধরে রাখাটা কোচ হিসেবে বড় গুণ বলে মনে করেন তিনি। “এটা আমার চরিত্রেরই অংশ। ফুটবলে আমি সাধারণত ধৈর্যশীল থাকি। কোচ হিসেবে ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ম্যাচটিকে দলের জন্য কোনো পরীক্ষা মনে করেন না আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট করেন, “স্কোয়াড বা খেলোয়াড়দের জন্য এটি নতুন করে নিজেদের প্রমাণের কোনো পরীক্ষা নয়। আমরা এখনও ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড গুছিয়ে আনছি। তাই এটি পরীক্ষা নয়, বরং একটি সুযোগ।”
নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পুরো স্কোয়াডের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি ও ইতিবাচক শক্তি অনুভব করার কথা বলেন। একাদশের নাম জানতে চাওয়া হলে তবে সোজাসাপ্টা জবাব দেন, “না, বলব না।”
ভারতে আসার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে একটি ১-১ ড্র ও অন্যটিতে ৪-২ জয় পায় ব্রাজিল। আনচেলত্তির মতে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের এই ম্যাচগুলো মূল দল গঠনের প্রক্রিয়ায় দারুণ প্রস্তুতি। মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি এই খেলা।




