পর্তুগাল জাতীয় দল ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে তৈরি হওয়া মানসিক টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং প্রধান কোচ জর্জ জেসুস। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকের পর তাঁদের মধ্যকার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির বরফ গলেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবারে। নেশনস লিগের ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারায় পর্তুগাল। অসলোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় রোনালদোকে। ম্যাচের একপর্যায়ে তাঁকে গা গরম করতে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামাননি জেসুস। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এসআইসির মতে, আন্তর্জাতিক বিরতিতে কেবল ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোতে খেলার বিষয়ে কোচের সাথে প্রাথমিক সমঝোতা ছিল রোনালদোর।
তবে নরওয়ে ম্যাচের মাঝপথে পরিকল্পনা বদলে শেষ ৩০ মিনিট খেলার প্রস্তাব দেন কোচ। কিন্তু মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় শেষ বাঁশি বাজার পরপরই একাকী ড্রেসিংরুমে ফিরে যান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন মঙ্গলবার মালমোতে পর্তুগালের মূল দলের সাথে অনুশীলনে নামেননি রোনালদো। অবশ্য পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করেছে যে তাঁর কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই; কেবল হোটেল জিমে একটি একক ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে আলোচনার পথ খুলে দেয়। পরবর্তীতে দুজনে বিস্তারিত কথা বলেন, যা দলের ভেতরের আমেজ স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
৭২ বছর বয়সী কোচ জেসুস এর আগে আল নাসরেও রোনালদোর সাথে কাজ করেছেন। পর্তুগালের কোচের দায়িত্বে এটিই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট। রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে জেসুস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, অধিনায়কের শারীরিক ফিটনেস এবং প্রতিটি ম্যাচের কৌশলগত চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই তাঁর খেলার সময়সূচি ঠিক করা হবে। বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের মুখোমুখি হতে যাওয়া পর্তুগাল এখন পুরোপুরি মাঠের খেলায় নজর দিচ্ছে।




