বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে টানা তিনবার জায়গা না পাওয়ার ক্ষত এখনো টাটকা আজ্জুরি শিবিরে। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে জেন্নারো গাত্তুসো বিদায় নেওয়ার পর গত এপ্রিলে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের ডাগআউটে ফেরেন ৬১ বছর বয়সী রবার্তো মানচিনি।
কিন্তু প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই বেলজিয়ামের কাছে ঘরের মাঠে হেরে তোপের মুখে পড়েছিলেন ইউরো ২০২০-এর এই মাস্টারমাইন্ড। চারপাশের তীব্র সমালোচনা আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটাতে ইতালির দরকার ছিল একটি রাজকীয় জয়। উয়েফা নেশনস লিগে ঠিক সেই পরাক্রমশালী রূপেই দেখা মিলল আজ্জুরিদের। স্বাগতিক তুরস্ককে ৪-১ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম জয় তুলে নিলেন মানচিনি।
ঘরের মাঠে ঘরের দর্শকদের সামনে পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে নিস্তেজ ছিল ইতালির সাবেক স্ট্রাইকার ভিনসেনজো মন্তেল্লার দল তুরস্ক। ম্যাচের ৯ মিনিটেই কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে ইতালিকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। তুর্কি রক্ষণ সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান ২-০ করেন দাভিদে ফ্রাত্তেসি।
ব্রেন্টফোর্ড ডিফেন্ডার মাইকেল কায়োদের জোরালো শট তুর্কি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে সুযোগ হাতছাড়া করেননি ফ্রাত্তেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকেই চমক দেখানো কায়োদে নিজেই করেন দলের তৃতীয় গোল। পিও এস্পোসিতোর পাসে বক্সে ঢুকে চমৎকার শটে জালে বল পাঠান তিনি। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নিজেদের সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনে বিরতিতে যেতে হয় তুর্কিদের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বারিস আলপের ইলমাজের গোলে ব্যবধান কমায় তুরস্ক (৩-১)। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি অতিথিরা। ৫০ মিনিটে সান্দ্রো তোনালির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে হেডে বল জালে পাঠান এস্পোসিতো। শেষ দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তুরস্ক আর ব্যবধান কমাতে পারেনি।
দুই ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল মানচিনির ইতালি, অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচে হেরে এখনো পয়েন্টশূন্য তুরস্ক। ২০২০ ইউরোতে ইংল্যান্ডকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে শিরোপা জেতানো মানচিনির সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ আজ্জুরিদের পুনর্গঠন করা। তুরস্কের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে বড় জয় পেলেও ইতালির পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
আগামী শুক্রবার গ্রুপের শীর্ষে থাকা পরাশক্তি ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আজ্জুরিরা। সেই ম্যাচেই বোঝা যাবে রবার্তো মানচিনির অধীনে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর কাতারে ইতালি কতটা শক্তভাবে ফিরে এসেছে।




