রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বড় ধাক্কার মুখে ব্রাজিলের ফুটবল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বড় ধাক্কার মুখে ব্রাজিলের ফুটবল

ব্রাজিলের অনেক পরিবারে এখন টাকার টানাটানি, ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপ বাড়ছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অনলাইন স্পোর্টস বেটিং। ঠিক এমন সময়ে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তিনি স্থির-অডস স্পোর্টস বেটিং পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।

লুলা বলছেন, পরিবারগুলোকে ঋণের ফাঁদে পড়া থেকে বাঁচাতেই এই পদক্ষেপ। তিনি সাও পাওলোতে সাংবাদিকদের জানান, 'আমি কঠিন, দ্রুত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা ক্যানসারের মতো, টিউমার কেটে ফেলতে হয়, না হলে সে আমাদের মেরে ফেলবে।' জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি এই শিল্পকে সমালোচনা করে বলেছেন, 'এরা আসক্তিকে মুনাফায় পরিণত করছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে।'

আরও পড়ুন-ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি এখন কে পড়বেন, জানা গেল

এই অস্থায়ী নির্বাহী আদেশ এখনই কার্যকর। বেটিংয়ের পরিচালনা, অফার, মধ্যস্থতা আর বিজ্ঞাপন সব বন্ধ। নতুন টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যারা আগে থেকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন, তাদের ৫ অক্টোবরের মধ্যে টাকা তুলে নিতে হবে। ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে আদেশটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। সরকার স্থির-অডস বেটিংকে প্রচার করা বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে লোককে টানার মতো কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আলাদা বিলও তৈরি করেছে। 

বেশিরভাগ ব্রাজিলিয়ান এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। তবে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো একে নির্বাচনী কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের পরই দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল

ব্রাজিলে জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে মিশেল তেমেরের সময়ে অনলাইন বেটিং খুলে দেওয়া হয়। জাইর বলসোনারোর শাসনামলে এটা দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লুলা প্রথমবারের মতো বেটিং কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও করের আওতায় আনেন। পরে অনিয়মিত দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়, যার মধ্যে কিছু অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বেটিং ও জুয়ার কারণে ব্রাজিলিয়ান সমাজের বছরে প্রায় ৩৮.৮ বিলিয়ন রিয়াইস ক্ষতি হয়। এর সঙ্গে আত্মহত্যা ও বিষণ্নতাও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ৩০ বিলিয়ন রিয়াইস বেটে খরচ হয়। বোলসা ফ্যামিলিয়ার মতো সরকারি সহায়তা পাওয়া মানুষদেরও এই প্ল্যাটফর্মে খরচ করতে দেখা গিয়েছিল, যা পরে আটকে দেওয়া হয়।

স্পোর্টস বেটিং থেকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় হয় বলে জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞার পর ফুটবল ক্লাবগুলো স্পনসরশিপ হারানোর ভয় দেখাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ক্ষতি হতে পারে।

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর