স্পেন ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ২০ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালক এন্ড্রিকের। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে পর্যাপ্ত খেলার সময় না পাওয়ায় জানুয়ারির মধ্যবর্তী দলবদলে এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে ধারে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ইতালিয়ান সিরি 'আ'-র দুই পরাশক্তি রোমা ও এসি মিলান। এদিকে রিয়ালে তরুণ এই ফুটবলারকে বসিয়ে রাখা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ফুটবল ইতালিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন দলবদল থেকেই এন্ড্রিককে নজরে রাখছিল রোমা ও মিলান। রিয়াল মাদ্রিদ তরুণ ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনোকে ফিওরেন্টিনায় ধারে পাঠানোর পর ইতিবাচক ফল পাওয়ায় এন্ড্রিকের ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণের চেষ্টা করেছিল তারা। সে সময় চুক্তিটি চূড়ান্ত না হলেও আগামী জানুয়ারিতে আবারও এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ধারের প্রস্তাবে রাজি করাতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই ক্লাব।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে হোসে মরিনিয়ো নিয়মিত খেলানোর আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে দলে একপ্রকার উপেক্ষিতই রয়ে গেছেন এন্ড্রিক। এলচের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে কেবল ৪ মিনিটের জন্য বদলি হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। এছাড়া তিনটি ম্যাচে পুরোটাই বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে এবং চোটের কারণে আরও চারটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি।
উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পেলে কেমন আলো ছড়াতে পারেন, তা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে লিয়োঁতে ধারে থাকাকালে প্রমাণ করেছিলেন এন্ড্রিক; সে সময় ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ২১ ম্যাচে ৮টি গোলের পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে ব্রাজিলিয়ান তরুণদের এমন নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেন, "ব্রাজিলিয়ান তরুণদের আসল সমস্যা হলো নিয়মিত না খেলার কারণে তারা নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারছে না। এন্ড্রিকের ক্ষেত্রে এটি ঘটছে, ঠিক যেমনটা এস্তেভাওয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। তারা ১৮ বা ১৯ বছর বয়সে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে মাঠে জায়গা পায় না। নিয়মিত খেলার সুযোগ ছাড়া তাদের বিকাশ ঘটা অসম্ভব। আমাদের বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্রাজিলের জন্য এন্ড্রিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তবে এর জন্য তাদের মাঠে নামা জরুরি।"




