সিটি অব জয় কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলপাগল সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক স্বপ্নিল মুহূর্ত। আগামী ৩ অক্টোবর বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল জাতীয় দল প্রথমবার ভারতের মাটিতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিকদের। ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে শক্তিশালী দল হতে যাচ্ছে এই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কেবল ভারতীয় ভক্তরাই নন, ঐতিহাসিক এই প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে সমান রোমাঞ্চ দানা বাঁধছে সেলেসাওদের ডাগআউটেও।
ঐতিহাসিক এই সফরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেখানে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড বলেম, ‘ব্রাজিল ফুটবলের মহিমা নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমায় আটকে নেই। বিশ্বের প্রতিটি কোণেই ছড়ানো রয়েছে তাদের অগণিত ভক্ত। তাই কলকাতার এই ম্যাচটি কেবল সেলেসাওদের নিজেদের জন্যই নয়, বরং ফুটবলা অনুরাগী ভারতীয় সমর্থকদের জন্যও এক পরম আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করবে।’
কাগজে-কলমে এটি একটি প্রীতি ম্যাচ হলেও প্রতিযোগিতার তীব্রতায় কোনো ছাড় দিতে নারাজ ব্রাজিলিয়ান কোচ। ‘এটি একটি প্রীতি ম্যাচ; কিন্তু আমাদের জন্য কখনোই কোনো ম্যাচ প্রীতি ম্যাচ নয়। যখন আপনি জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, আপনাকে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে হবে। আমরা তরুণ এক প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজ করছি।’
কলকাতা সফরের জন্য ইতোমধ্যেই ২৬ সদস্যের এক শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ। যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র, বিস্ময় বালক এনদ্রিক এবং বার্সেলোনার উইঙ্গার রাফিনিয়ার মতো শীর্ষ সারির পারফর্মাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অভিজ্ঞদের মধ্যে মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহেস ও ব্রুনো গুইমারেসদের পাশে রেখে তরুণদের মিলিয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করাই এখন কার্লো আনচেলত্তির মূল পরিকল্পনা।
ভারতে প্রথমবার আসার অভিজ্ঞতা ও এখানকার ক্রীড়াসংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আনচেলত্তি উল্লেখ করেন যে,‘ভারত সফরটি রোমাঞ্চকর হবে। আসলে বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার খুব বেশি অভিজ্ঞতা ভারতের নেই, তবে তাদের খেলার ধরণ আমাদের জানতে হবে। আমি কখনো ভারতে যাইনি। ভারতে ফুটবলের কোনো সংস্কৃতি নেই, তবে তারা অন্যান্য খেলায় ভালো। নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করতে হলে এই জায়গায় কাজ করতে হবে।’




