বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

টি-টোয়েন্টি বাড়বে, কমতে পারে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ এএম

শেয়ার করুন:

টি-টোয়েন্টি বাড়বে, কমতে পারে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ

ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচি এখন দুবাইয়ের বৈঠককক্ষে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ক্রিকেট অপারেশনস কর্মশালায় সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জড়ো হয়েছেন। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পরবর্তী ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি)। ২০২৭ সালের মার্চে বর্তমান চক্র শেষ হওয়ার পর ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেমন ছন্দে চলবে, সেই রূপরেখাই এখন আলোচ্য বিষয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় পূর্ণাঙ্গ এফটিপি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন আইসিসির এক কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, ‘অনেক কিছুই এখনো পরিবর্তনশীল’। তবে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর একটি বড় অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে এবারের বৈঠকেই। চূড়ান্ত প্রস্তাব নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠিত আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

নতুন চক্রে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ওয়ানডে সিরিজে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের সমন্বয় করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। আইসিসি টি-টোয়েন্টিকে ক্রিকেটের বিস্তারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছর পরপর হয়, অন্যদিকে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চার বছর অন্তর।

নামিবিয়া ক্রিকেটের চেয়ারম্যান এবং সম্প্রতি আইসিসি বোর্ডে যোগ দেওয়া রুডি ভ্যান ভুরেন মনে করেন, টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে সহযোগী দেশগুলোর জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়ানডে ক্রিকেট যে গুরুত্ব হারাচ্ছে, তা নয়। বিশ্বকাপ এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর। ওয়ানডেকে আরও অর্থবহ করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ১৯৯০-এর দশকের মতো ত্রিদেশীয় বা চার জাতির সিরিজ ফিরিয়ে আনার ভাবনাও রয়েছে। তবে পুরনো ওয়ানডে সুপার লিগ ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

এফটিপি এখনো চূড়ান্ত না হলেও অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর বেশিরভাগই অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত। অ্যাশেজের প্রচলিত সূচি বজায় থাকবে ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডে, ২০২৯-৩০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় এবং ২০৩১ সালে আবার ইংল্যান্ডে। ২০২৮ সালের শুরুতে ইংল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারত সফর করবে। পরের বছর ২০২৯ সালে ভারত ইংল্যান্ডকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে।

নতুন চক্রে আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে সেই প্রতিযোগিতা। সেই সময় ইংল্যান্ডে ঘরের মাঠে ক্রিকেট মৌসুম চলবে। ফলে পুরুষদের এক সপ্তাহব্যাপী টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্য পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর জন্য সবসময়ের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজগুলো নিজেদের সূচিতে জায়গা করে নেওয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরপরই ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে।

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট না খেলা পাকিস্তান ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সিরিজ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে তারা। এই সিরিজটি শুরুতে একমাত্র টেস্ট আয়োজনের আলোচনা থেকেই এসেছিল। পাকিস্তান যদি ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালের দৌড়ে থাকত, তাহলে সেই টেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া ২০২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান।

বর্তমানে ডব্লিউটিসির চতুর্থ চক্র চলছে। এর কাঠামো ও ভবিষ্যৎ ফরম্যাট নিয়ে গত এক বছরে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দুই স্তরের লিগ চালুর প্রস্তাব উঠলেও পরে সেটি বাতিল হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে আইসিসির একটি ওয়ার্কিং কমিটির উপস্থাপনায় বর্তমান নয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ডব্লিউটিসিতে এক টেস্টের সিরিজ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়। জিম্বাবুয়ে ডব্লিউটিসিতে যুক্ত হতে আগ্রহী। তবে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড এ বিষয়ে আগ্রহী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ২০২৭-২৯ সালের পরবর্তী চক্রে ডব্লিউটিসির পরিধি বাড়বে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহের বৈঠক থেকে এ বিষয়ে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে আইসিসির ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)-এর অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হবে। রিভিউ প্রযুক্তির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে চায় সংস্থাটি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তির জন্য আইসিসির অনুমোদিত সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে হক-আই ও ভার্চুয়াল আই।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর