বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে ছোট ফরম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নিজের ব্যাটিংয়ে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৮২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে জয় এসেছে ৩২টিতে এবং হার ৪৭টিতে।
চলতি বছরের জুনের শেষের দিকে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জ্যোতির চমৎকার নেতৃত্ব ও ব্যাটিং পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডস এবং শক্তিশালী পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। তবে দুবাইতে সদ্য সমাপ্ত নারী এশিয়া কাপে দলের চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই অধিনায়ক।
এশিয়া কাপের চার ম্যাচে মাত্র ১৪ গড়ে ৫৬ রান করেন জ্যোতি। মাঠের ভেতর তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটকিপিং, বোলিং পরিবর্তন এবং দলের ভেতর তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জন্য নতুন অধিনায়কের সন্ধান করছিল। কিন্তু তার আগেই জাপান থেকে এক ইমেইলের মাধ্যমে বিসিবিকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন জ্যোতি নিজে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, "জ্যোতি ইমেইলের মাধ্যমে বিসিবিকে জানিয়েছে যে সে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চায়। ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
তবে এশিয়ান গেমস শেষ না হওয়া পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন জ্যোতি। টুর্নামেন্টটি শেষ হলে তিনি এই ফরম্যাটে আর নেতৃত্ব দেবেন না, তবে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
রফিকুল ইসলাম বাবু আরও যোগ করেন, "এশিয়ান গেমস পর্যন্ত সে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক থাকবে এবং ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবেও বহাল থাকবে। এশিয়ান গেমস আমাদের নারী দলের জন্য পদক জেতার এক দারুণ সুযোগ। এর আগে আমরা দুবার সেখানে রৌপ্য পদক জিতেছি। এবারও আমরা ভালো ফলাফলের আশা করছি।"
তবে গেমসের মতো এত বড় এক মেগা ইভেন্ট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে অধিনায়কের এমন সিদ্ধান্তে বিসিবি নারী উইং প্রধান কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের ঠিক প্রাক্কালে এমন ঘোষণা দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, "গেমসের আগে অধিনায়কের কাছ থেকে আসা এমন ঘোষণা আমাকে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর আমরা সবাই একসঙ্গে বসব এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।"
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকা অবস্থায় অধিনায়কের সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দলের মানসিক শক্তিতে কতটা চাপ ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




