আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়ের একটু একটু করে পর্দা নামছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের রেকর্ড নিয়ে তিনি চলে গেলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন সেই বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিও, যা বছরের পর বছর তার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছিল। এখন প্রশ্ন একটাই সেই জার্সি এবার কার গায়ে উঠবে?
স্কালোনির দলে এখন দুজন তরুণের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। একজন নিকো পাজ, আরেকজন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো। মজার ব্যাপার হলো, দুজনেরই বর্তমান ঠিকানা রিয়াল মাদ্রিদ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।
২১ বছর বয়সী নিকো পাজের জন্ম স্পেনের তেনেরিফে। বাবা পাবলো পাজ আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছেন। স্পেনে বড় হলেও তিনি বাবার দেশ বেছে নিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমি থেকে উঠে এসে ২০২৪ সালে মূল দলে অভিষেক হয়। নিয়মিত সুযোগের জন্য ইতালির কোমোতে চলে যান। গত মৌসুমে কোমোর হয়ে ১৩ গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
চলতি মৌসুমেও ছন্দ ধরে রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে রেড বুল লাইপজিগের বিপক্ষে কোমোর বড় জয়ে দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। মাঝমাঠ থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, গতি বাড়ানো-কমানো, শেষ পাস এসবই তার শক্তি। মেসির মতো সরাসরি বিকল্প না হলেও আক্রমণভাগ সাজাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনোর বয়স মাত্র ১৯। রিভার প্লেট থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে নিয়েছে। খেলার সুযোগ দিতে ফিওরেন্তিনায় ধারে পাঠানো হয়েছে। ডানপ্রান্তে গতি, ড্রিবলিং আর সরাসরি আক্রমণই তার মূল অস্ত্র। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেছিলেন।
দুজনের খেলার ধরন আলাদা। পাজ মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেন, মাস্তানতুনো ডানপ্রান্ত দিয়ে ধার বাড়াতে পারেন। তাই স্কালোনি হয়তো একজনকে দিয়ে মেসির জায়গা পূরণ না করে দুজনকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন।
কে শেষ পর্যন্ত ১০ নম্বর জার্সি পাবেন, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত নিকো পাজ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনোও পিছিয়ে নেই। দুজনের সামনেই এখন আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন কে নিতে পারবেন খোদ মেসির জায়গা?




